দীঘির জলের উপর ভাসছে চাঁদের
ছায়া। পাশে ঝোপেঝাড়ে জোনাকির পাড়া। বাচ্চা এক জোনাকি তার মাকে জিজ্ঞাসা করল, মা, জলের উপর জোনাকি ওটা?
মা জোনাকি
বলল, হ্যাঁ তো।
বাচ্চা
জোনাকি তার দলবল নিয়ে জলের উপর ওড়ে, একটু করে ছোঁয় জল,
চাঁদ ওঠে দুলে। তারা বলে, বাহ, এই তো দিচ্ছে সাড়া। ওর নাম সাদা জোনাকি।
এমন সময় এক
প্যাঁচা বলে উঠল, ওরে মূর্খের দল, আকাশের
দিকে তাকা, ও চাঁদ, এ তার ছায়া,
যেমন পড়েছে ওই নারকেল গাছের ছায়া, বটগাছের
ছায়া, এও তেমন! খালি বোকার মত খেলা!
সবাই তাকালো
আকাশের দিকে। তাই তো। ওই তো চাঁদ। এ তো শুধু ছায়া।
মন খারাপ
করে জোনাকির দল ফিরে এসে বসল ধানক্ষেত জুড়ে। দেখতে দেখতে আকাশ জুড়ে করল মেঘ।
ঝমঝমিয়ে নামল বৃষ্টি। জোনাকির দল, এ পাতা, সে
পাতার নীচে নিল আশ্রয়।
বৃষ্টি
থামল। মেঘ কাটল। তখন মধ্যরাত। সারা মাঠ এখানে সেখানে জমে জল। সব জলে চাঁদের ছবি।
জোনাকির দল হইহই করে নামল মাঠে। জলে দেয় দোলা, চাঁদ ওঠে দুলে।
খেলতে খেলতে তারা ভুলেই গেল সে আকাশের চাঁদ।
প্যাঁচা
খালি শুকনো মুখে বসে রইল গাছের ডালে একা। আকাশের চাঁদ রইল ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর
জলের প্রতিচ্ছবি রইল তার সাধ-কল্পনার বাইরে। সজল বাতাস খালি তাকে ঘিরে বয়ে যেতে
যেতে বলে গেল...হায় হায়।
No comments:
Post a Comment