রামকৃষ্ণদেব বলছেন, তোমার শব্দ চিন্তা না অনুভব? যদি শুধু চিন্তা হয়, তবে তেমন কিছু মূল্য নেই। যদি অনুভব হয়, তবে দেখো, সে শব্দের ধার শুধু নেই, ভারও আছে। যে ভারে ডুব আছে। সেখানে শব্দ পৌঁছায় না, উপনিষদ বলছেন। তবে?
যে শব্দ
চিন্তা, সে শব্দ পৌঁছায় না। যে শব্দ অনুভব, সে
শব্দ পৌঁছায়। নইলে তোমার গানে আমার প্রাণ টানে কেন? গান
মানে কি শব্দ? গান মানে কান্না। ডাক। আকুলতা। তুমি কি
ব্যাকুল হলে? কূল হারালে? তবে দেরি
নেই। পুবাকাশে অরুণোদয়।
কিন্তু শব্দ
আর অনুভবে যে দূরত্ব অনেক। তখন? মন মুখ এক হয় না যে।
মন মুখ এক
না হলে কিছু হবে না। মনে এক আর মুখে এক। শব্দ অনাথ। শব্দ শুধু হাওয়া। ওতে যে বলে
আর যে শোনে, দুজনেই ফাঁকিতে পড়ে। ফাঁকি মানে ফাঁক।
মনের মধ্যে খাদ। অতল খাদের অন্ধকার। রাস্তা আছে কিনা তাও দেখা যাচ্ছে না। নিজের
উপর বিশ্বাস নেই। সব চাপ চাপ অন্ধকার। ভয়। আতঙ্ক। গেলাম হারিয়ে। সব গেল। পথভ্রষ্ট
হলাম বা। কই গো, কেউ যে নেই। এত এত অন্ধকারে রাস্তা পাই না
যে। আদৌ কি রাস্তা আছে? না সব শেষ?
শব্দ রাস্তা
চেনায়। কিন্তু সে কোন শব্দ? অনুভবের শব্দ। অভিজ্ঞতার। স্তবে
লেখা হচ্ছে, মুখে বলছি বটে, কিন্তু
অনুভব নাই। "বক্তোধৃতপি হৃদি মে ন চ ভাতি কিঞ্চিৎ", গাইলেন স্বামীজি। গাওয়ানো শেখালেন। স্বীকারোক্তি। শরণাগত হচ্ছেন। তস্মাৎ
ত্বমেব শরণম মম দীনবন্ধো…..
শব্দের গায়ে
তাপ। শব্দের গায়ে রাগ। শব্দের গায়ে ছল। কপটতা। হিংসা। ক্রুর মতলব। ষড়যন্ত্র। সব
বহন করে নিয়ে যাচ্ছে শব্দ। শব্দ নিয়ে যাচ্ছে আমায়। আমি থামতে চাইলেও থামতে পারছি
না। আমার হাত পা বাঁধা। এ সব শব্দের উদগাতা আমিই তো। আমি মনে শব্দ। শব্দের জাল।
নীচ শব্দ। হীনবুদ্ধির শব্দ। রাস্তা কোথায়? নেই। আমি বন্ধ
করেছি। আমার শব্দে মধুই নেই তায় অমৃত! শব্দের অমৃত খুঁজছি। অমৃত না, সঞ্জীবনী চাই। আমায় তোমার শব্দ দিয়ে বাঁচাও। শব্দ আসুক। শব্দ আনুক
অনুভব। শব্দ আকরিক। আমি একান্তে বসি। তোমার শব্দ থেকে ছেঁকে ছেঁকে অমৃত সিঞ্চন
করি। আমার বিকারগ্রস্ত বোধের মুখে তুলোয় করে করে দিই। বোধ জাগুক। বোধ সবল হোক।
অনুভব স্বাধীন হোক। সবল হোক। তারপর তোমার কথার প্রতিধ্বনি হয়ে বাঁচি। তুমি ডাকো।
শব্দে ডাকো। আমি বাঁচি।
No comments:
Post a Comment