ক্লাসরুমের বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। সব ছাত্র ছাত্রীরা
বেরিয়ে গেছে। একজন ছাত্রী বেরোয়নি। তার ট্রেনের দেরি আছে। সে অপেক্ষা করছে।
সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা। মধ্যবয়েসী শিক্ষক, বিবাহিত।
স্ত্রী তার মেয়েকে নিয়ে বাজারে গেছে পাশের শহরে। আটকে গেছে, ফিরতে
দেরি হবে ফোনে জানিয়েছে।
শিক্ষক ছাত্রীর সামনে এসে দাঁড়াল। ছাত্রীর চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে
তাকিয়ে। ছাত্রী কিছুটা অস্বস্তি হলেও তাকিয়ে 'স্যারের দিকে'। সে এবারে উচ্চমাধ্যমিক দেবে। তার পিঠের দিকে ব্ল্যাকবোর্ডে এখনও শেষ
অঙ্কগুলো মোছা হয়নি। যদিও তার খাতায় টোকা হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে এই স্যারের
কাছে পড়তে আসার সুযোগ পাওয়া। একে তাকে ধরে স্যারকে রাজী করিয়ে তবে হল।
স্যার ছাত্রীর কাঁধে হাত
রাখল। ছাত্রী অস্বস্তি হলেও, হাতটা সরালো না। কিভাবে হঠাৎ
করে গুরুজনকে, শ্রদ্ধার ব্যক্তিকে 'না'
বলতে হয় সে শেখেনি। অভ্যস্ত নয়। যদিও ইনস্টিংক্ট বলছে কিছু একটা
অপ্রত্যাশিত হতে চলেছে। "স্যারের চোখ বলছিল"।
স্যারের শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত।
স্যারের ডান হাতের আঙুলগুলো এখন ছাত্রীর মাথার পিছনে চুলের মধ্যে খেলা করছে।
ছাত্রী জানে এখন ছাড়িয়ে চলে যেতে হয়, কিন্তু এই ঝটকা দেওয়ার
অভ্যাসটা তার হয়নি এখনও। বুদ্ধি বললেও, মন শরীরে জড়তা।
স্যারের সিগারেটগন্ধ ঠোঁটটা গালের উপর, ঠাণ্ডা নাকটা গালের
উপর। ছাত্রীর সারা শরীরে যে অনুভূতি সেটা তার কাছে নতুন। মনের মধ্যে যে আড়ষ্টভাব
সেটা নতুন। শরীরের এই অনুভবের সাথে মনের এই বিরূপতা ছাত্রীর কাছে নতুন। তার দেখা,
শোনা সমস্ত ভালোবাসার স্বপ্নগুলো অন্যরকম ছিল, তখন শরীর আর মন একই সরলরেখায় দাঁড়াত। এখন মন দাঁড়িয়ে শরীরের বিপরীতে,
সে দু টুকরো। তার বন্ধ ঠোঁটের আগল খুলতে ঠোকরাচ্ছে লোভী কাকের মত
স্যারের সিগারেটের গন্ধওয়ালা শক্তিমান দুটো ঠোঁট।
ব্যস। সব মিলিয়ে হয় তো তিন
থেকে চার মিনিট। ছাত্রী স্টেশানে। আবার পরের শুক্রবার পড়া, আজ
মঙ্গলবার। কাউকে বলা যাবে না। ঠিক হয়ে নিতে হবে এর মধ্যে। অনেক কষ্ট করে এই
স্যারের ব্যাচে জায়গা। আর তো কয়েকটা মাস।
মেয়েটা চেয়েছিল তবে। স্যারের
মাথায় একটাই চিন্তা অহর্নিশি। মেয়েটা চেয়েছিল তবে। নইলে ওভাবে নিজেকে ছেড়ে দিল কেন?
কম বয়েসের আড়ষ্টতা। আমিই কাটিয়ে নেব। দু'জনেই
সুখ পাব।
মেয়েটা নাম বলতে চায় না। আমিও
এড়িয়ে গেলাম। ঘটনাটাও পুরোনো কয়েক বছরের। আমি শুধু এই জন্যে লিখছি, বায়োলজির নিয়ম অনুযায়ী একটা শরীরের স্পর্শে যে কোনো সুস্থ, তরুণ শরীরে কিছু প্রতিক্রিয়া হয়। সেটার সাথে মন-বুদ্ধি-বিবেকের কোনো
সম্মতি নেই। সে সুখ পাচ্ছে না। নানা কারণে সে আপনাকে প্রতিহত করতে পারছে না। নানা
কারণে, মনে রাখবেন। সেটা আপনার বয়েস, পদমর্যাদা,
সামাজিক অবস্থান, তার লজ্জাশীল স্বভাব,
তার নানা কারণে নিজের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে অস্বীকার করে অন্যের
ইচ্ছায় নিজেকে সঁপে দেওয়ার অভ্যাস ইত্যাদি ইত্যাদি।
এগুলো কথা নয়। আমি জানি আপনি
ধর্ষক নন। আপনি দুর্বল চরিত্রের কামুক মাত্র। শুধু এইটুকু বলি, শরীরের প্রতিক্রিয়াগুলোকে সম্মতি ভেবে, সুখ ভেবে
নিজেকে প্রতারণা করবেন না। আপনি যদিও এখনও ধর্ষক হননি, তবু
সেদিকে যাচ্ছেন, অজান্তেই হয় তো।
কাউকে চুমু খেতে ইচ্ছা হলে
প্রশ্ন করে সম্মতি নিন, তার বয়েসটা খেয়াল রাখুন, তাকে অবশ বা বিবশ করার খেলাটা আর খেলবেন না প্লিজ। ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।
No comments:
Post a Comment