Showing posts with label অনুবাদ. Show all posts
Showing posts with label অনুবাদ. Show all posts

Monday, March 18, 2024

যে ফকির, সে-ই পাগল


ফকির পলাশ ফুল কুড়িয়ে নিয়ে বলল, যা পাগল, কোঁচড়ে ভরে নিয়ে যা। গিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দে। 

     যে ফকির। সে-ই পাগল। নিজেকে নিজে বকে। নিজেকে নিজেই সান্ত্বনা দেয়। নিজেকে নিয়ে বেড়াতে বেরোয়। আবার নিজেকে নিয়ে ঘুমায়। 

     ফকির দেখল, পাগল সব পলাশগুলো জলে ভাসালো। ফকিরের মনে ব্যথা জন্মাল। তবে কী ভুল নির্দেশ দিলাম? থাকতই না হয় মাটিতে পড়ে। 

   পাগল বলল, জলে নামবে? পলাশগুলো ফিরিয়ে আনবে?

   ফকির বলল, থাক। 

   দুজনে এসে গাছতলায় বসল। ফকির তাকালো গাছের নীচে। কত পলাশ পড়ে। পাগল তাকালো গাছের দিকে। কত পলাশের কুঁড়ি। 

     রাত হল। পাগল ঘুমালো। ফকির স্বপ্নের তুলি নিয়ে একের পর এক পলাশ এঁকে চলল সারাটা মন জুড়ে। তার চোখে ঘুম নেই। কোনোদিনই ঘুম নেই। কী একটা ব্যথা, তাকে কখনও গভীর সুখে, কখনও গভীর আনন্দে জাগিয়ে রাখে।

    পাগল সকালে উঠে দেখে সারাটা মন পলাশের রঙে রাঙিয়ে। একি! একি! 

    পাগল উঠল নেচে। গাছের রঙ, আকাশের রঙ, মাটির রঙ, সব সব রঙ রাঙিয়ে আছে পলাশে! 

   ফকির কিন্তু উদাস। পাগল বলল, আজ চলো গান গাই। আজ চলো নাচি। আজ চলো সারাটা দিন হৈ-হুল্লোড় করে কাটাই। 

   পাগল গেয়ে-নেচে ধুলোয় মাখামাখি হয়ে সে যে কী একটা কাণ্ড ঘটালো। দেখতে দেখতে সূর্য গেল অস্তে। পাগল পড়ল ঘুমিয়ে গাছের তলায়। পলাশ গাছের তলায়। 

   সারারাত জুড়ে পলাশ পড়ল টুপ টুপ করে শিশিরে ভিজে পাগলের গায়ে। 

   ফকির চাঁদের দিকে তাকিয়ে জেগে। তার যেন সব হারিয়েছে। আবার যেন সে সবই পেয়েছে। কি পেয়েছে, সে পাগল জানে। আর কি হারিয়েছে? তার খোঁজ কে জানে?

Sunday, January 14, 2024

তাকেও তো যেতে হবে

ভামিনী দুটো স্বপ্ন উনুনের আঁচের মত বুকে জ্বালিয়ে বেঁচেছে। একদিন ভাতের থালার উপর হাত দিয়ে বলবে, আর দিও না…. পারব না গো….. তাও কেউ তার সরু ফর্সা হাতটা সরিয়ে দেবে গরম ভাত তার থালায়…… আরেকটা স্বপ্ন… রান্নাঘরে সে ঢোকামাত্র কড়াই, হাতা, খুন্তি জেগে উঠবে। ঠং ঠং আওয়াজ হবে রান্নাঘর থেকে। সবাই বলবে, ভামিনী আছে গো রান্নাঘরে… ভামিনী।

      ভামিনীর পঁয়ষট্টি বছর, চারমাস, তেরোদিনের শরীরটা নিথর। যমুনার ধারে। যেন শীতে কুঁকড়ে আছে। শীত তো শরীরের লাগে না। শরীরে যে থাকে লাগে তার। সে ছেড়ে গেছে ভোররাত্রে। শীতের করাত বাতাস এসে শরীরে লাগছে, যেন পাথরে লাগছে। 

    ভামিনীর একটা হাত জপের থলেতে ভরা, আরেকটা হাত যমুনার মাটিতে। চোখ দুটো খোলা। যেন খোলা জানলা। কিন্তু জানলা থাকলে কি হবে? ঘরে মানুষ কই? দরদে জাগে সত্য। ভামিনী সেই সত্যকে খুঁজেছে। ভামিনী খোলা চোখেই শুধু না, বন্ধ চোখেও মনের চোখ খুলে অপেক্ষা করত। তাকে নিতে না হয় না-ই এলো। দেখতে অন্তত আসুক। 

    কেউ আসেনি। 

    ভামিনী শেষ রাতে যমুনার তীরে শুয়ে শিয়ালদার ট্রেনের ঘোষণা শুনেছে। তার বাড়ি রাণাঘাটে নেমে যেতে হয়। কি করে যাবে এতটা রাস্তা, একা? 

     ভামিনী শুয়ে শুয়ে দেখছে বাঁকে বিহারি ভিড় গলি ছেড়ে আসছে। যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করেছে সে এতগুলো বছর, সেখানে বাঁকে বিহারি খুঁজতে এসেছে তাকে। নেই তো সেখানে সে। কতদিন হল ভালো করে দাঁড়াতে পারে না। যেখানে সেখানে পেচ্ছাপ হয়ে যায়। আটকাতে পারে না। এত মন্দির চারদিকে। যাবে কোথায়? 

    বাঁকে বিহারি আসছে। রিকশায় চেপে আসছে। দাঁড়ালো পরিক্রমা পথে। তার দিকে এগিয়ে আসছে বাঁকে বিহারি। মাথাটা ঝুঁকিয়ে বসে। জিজ্ঞাসা করছে, বেটি হাস্পাতালে চ…

    ভামিনী বলল, মায়ের কাছে যাব। 

    বাঁকে বিহারি তার হাতটা ধরে নিধুবন দিয়ে হাঁটছে। মায়ের কাছে যাচ্ছি? 

    বিহারিজী হাসল। ভামিনী বলল, বলো না শ্যাম…. যাচ্ছি কোথায়? 

    বিহারিজীর মুখে হাসি। ভামিনী চলেছে। 

     সাধু ভামিনীর মাথাটা কোলে নিয়ে বসে। ভোরের রোদ এসে পড়েছে ভামিনীর মুখে। সাধু জিজ্ঞাসা করেছে, যাবি হাস্পাতালে? ভামিনী বলেছে, না। 

   একটু পর মিউনিসিপালিটির ভ্যান আসবে। অনেক ভামিনী এখানে ওখানে পড়ে আছে। তুলে নিয়ে যাবে। সৎকার হবে। শাস্ত্রমতে। 

       সাধু ভামিনীর মাথার উপর হাত রেখে বসে। গোটা সংসার সামনে বসে। সাধু সবাইকে জানাচ্ছে ভামিনীর চলে যাওয়ার কথা। যদি কারুর কাজে লাগে। 

     ভ্যান এসে গেছে। ভ্যানে আরো দুজন প্লাস্টিকে মোড়া শুয়ে। বাঁকে বিহারির চোখে জল। যমুনার জল। টলমল করছে। সাধুর কোল থেকে ভামিনীকে নিয়ে প্লাস্টিকে মুড়ছে। জপের থলেটা ছাড়ল না ভামিনী। সাধু ভামিনীর মাথায় হাত রেখে বলল, আয় মা…. আয়… সাবধানে যাস…… বাঁকে বিহারি ফিরে যাচ্ছে পরিক্রমা পথ দিয়ে…. সাধু উঠল। তাকেও তো যেতে হবে।

Friday, July 14, 2023

আচরণের স্বর্ণময় নিয়ম

 


"আচরণের স্বর্ণময় নিয়ম - পারস্পরিক সহিষ্ণুতা, কারণ আমাদের সবার বিচারধারা কখনও একই রকমের হবে না, আর সত্যকে আমরা সব সময়ই খণ্ডিত আর আলাদা আলাদা দৃষ্টিকোণেই দেখব। সবার বিবেক তো একই রকমের হয় না। যদিও বিবেক মানুষের ব্যবহারের উত্তম পথপ্রদর্শক, কিন্তু তাও নিজের উত্তম বিচার অন্যের উপর আরোপ করলে সেই ব্যক্তির নিজের বিবেকের স্বাতন্ত্র্যবোধের উপর গভীর কুঠারাঘাত হয়। অত্যন্ত বিবেকবান মানুষদের মধ্যেও, স্পষ্ট মতান্তরের সম্ভাবনা থেকেই যায়।

অতএব, প্রত্যেক সভ্য সমাজে, পারস্পরিক সহিষ্ণুতাই আচরণের একমাত্র সম্ভাব্য নিয়ম।

ক্ষমা আত্মার গুণ, তাই এটি একটি সদর্থক গুণ। এটা নঞর্থক গুণ না। ভগবান বুদ্ধ বলছেন, "ক্রোধকে অক্রোধের দ্বারা জয় করবে", কি এই অক্রোধ? এটি হল একটি সদর্থক গুণ, আর এর অর্থ হল উদারতা অথবা প্রেমের সর্বোচ্চ গুণময়তা। তোমার নিজের মধ্যে এই সদগুণের বিকাশ ঘটানো উচিৎ, যাতে তুমি একজন ক্রোধী ব্যক্তির কাছে যেতে পারো, এবং তাকে তার ক্রোধের কারণ জিজ্ঞাসা করতে পারো, আর যদি দেখো তুমি কোনোভাবে তাকে আঘাত করেছ, তবে নিজেকে শুধরে নিতে পারো, অথবা তাকে তার ভুলটা জানাতে পারো আর বোঝাতে পারো যে এইভাবে রেগে থাকা তার উচিৎ হচ্ছে না। আত্মার গুণের এই বোধ এবং তার সবিবেক প্রয়োগ শুধু মানুষকে না, তার চারপাশের পরিবেশকেও উন্নত করে তুলবে। এটা অবশ্যই সত্য যে, একে বাস্তবে প্রয়োগ সে-ই করতে পারবে যে তার অন্তরে ভালোবাসাকে বিকশিত করতে পেরেছে। এবং এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে নিরন্তর অভ্যাসে এই গুণের বিকাশ অবশ্যই সম্ভব।

যে কথা একজন ব্যক্তির জন্যে সত্য, তা রাষ্ট্রের জন্যেও সত্য। যে দুর্বল সে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারে না, ক্ষমা সামর্থবানের গুণ।"

 

~ মহাত্মা গান্ধী

 

Friday, June 2, 2023

যদি কেউ প্রশ্ন করে

যদি কেউ প্রশ্ন করে

  খ্রীষ্ট কি উপায়ে জাগাত মৃতেরে?

 

দোহাই, অলৌকিকত্বের ব্যাখ্যা কোরো না....

 

  আমায় চুম্বন করো ওষ্ঠপল্লবে

    এই তো, এই ভাবে....

      এই তো, এই উপায়ে....

 

~ রুমি

 

Tuesday, October 13, 2020

দেশ কাগজের উপর আঁকা নক্সা তো নয়

 



যদি তোমার বাড়ির

কোন এক ঘরে আগুন লাগে

তুমি কি পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকতে পারো?

যদি তোমার বাড়ির

এক ঘরে পচছে লাশের স্তুপ

তুমি কি অন্য ঘরে বসে প্রার্থনা করতে পারো?

যদি তোমার উত্তর, হ্যাঁ

তবে আমার তোমাকে কিছু বলার নেই

দেশ কাগজে আঁকা নক্সা তো নয়

যার এক অংশ ছিঁড়ে গেলে

বাকি অংশ প্রমাণ হিসাবে থেকে যাবে একইভাবে?

আর নদী পর্বত শহর গ্রাম

একইভাবে নিজের নিজের জায়গায়

দাঁড়িয়ে থাকবে উদাসীন।

যদি এই হয় তোমার বিশ্বাস

তবে তোমার সাথে আমি থাকছি না।

যে বিবেক স্তুপাকৃতি লাশ দেখেও

অবিচল,

সে অন্ধ

যে শাসন চলেছে বন্দুকের নলের ওপর

ভরসা করে

সে তো হত্যাকারীর ব্যবসা

যদি তুমি এ না মানো

তবে তোমার সাথে

আর এক মুহূর্ত থাকার ইচ্ছা নেই আমার।

অবশেষে স্পষ্ট করে বলি,

কোন হত্যাকারীকে কখনও ক্ষমা কোরো না,

হোক সে তোমার বন্ধু,

বা ধর্মের ঠিকাদার

অথবা লোকতন্ত্রের স্বনামধন্য চৌকিদার।

(নির্বাচিত অংশের অনুবাদ - देश कागज पर बना नक्शा नहीं होता)

কবি - সর্বেশ্বর দয়াল সাক্সেনা

Thursday, May 7, 2020

২১


তুমি যখন থাকো,
    তখন সারারাত আমরা ঘুমাই না
তুমি যখন না থাকো
     তখন সাররাত আমার ঘুম আসে না...

(রুমির ভালোবাসায়)

Tuesday, September 10, 2019

২০



দস্তয়েভস্কি বলেছিলেন ---"সচেতনতা একটি রোগ বিশেষ"----
      আমার মনে হয়, সচেতনতা নয়,গাম্ভীর্য। সচেতনতার এমন একটি গম্ভীর গ্রাম্ভারি ভাব রয়েছে যা চেতনার স্বচ্ছন্দ বহমানতাকে কোথাও একটা রুদ্ধ করে দেয়। যখনই আমি, আপনি কোনো একটি বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন হয়ে পড়ি, আমরা আমাদের চেতনা সম্পর্কে নিজেদের অগোচরেই খুব সচেতন হয়ে যাই--- মূল বিষয় সেখানে গৌণ হয়ে পড়ে।
      কিন্তু জীবন তো শুধু এই সচেতনতা নিয়েই নয়। বস্তুত, জাগতিক জীবনে সচেতনতার ভূমিকা অতি অল্প। জীবন আসলে সচেতন এবং অচেতনের মধ্যে এক খণ্ডিত যাপন, যার ভিতরে সচেতনতা স্বল্প স্থান অধিকার করে রয়েছে, আর আমাদের অনুভব, আবেগ, সংবেদ, সবটুকু রয়েছে অচেতন মন জুড়ে। যখন আমরা নিজেদের বাধ্য করি নির্দিষ্ট কিছু ব্যাপারে ভাবতে বা অনুভব করতে, আমরা জীবনের সচেতনতার সেই ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে যাতায়াত করি, যা সীমাবদ্ধ। যখন চেতনাকে করে দিই মুক্ত, মন হয়ে যায় নিষ্ক্রিয়, তখন অবচেতন দখল নেয় মনের। নিষ্ক্রিয় মন তখন মানসপটে দেখে চলে অজানা চলচ্চিত্র---বিভিন্ন অনুভব, আবেগ, স্বপ্ন, ইচ্ছে, রাগ, যন্ত্রণা, আনন্দ--- ছবির মতো ভেসে যায় অজানা উৎস থেকে অচেনা গন্তব্যে। আমাদের কিছু বিচার করার প্রয়োজন নেই, আতঙ্কের কোনো অবকাশ নেই, ঘটনা-দুর্ঘটনার রাশ নিজেদের হাতে নেওয়ারও দরকার নেই কোনো। অস্তিত্বহীন নয়, অস্তিত্বের নিগড়মুক্ত হয়ে আমাদের শুধু দেখে যেতে হবে।
      পৃথিবীর সব তত্ত্ব আমরা প্রমাণ করতে পারবো না। যুক্তি-তর্কের নিজস্ব সীমা রয়েছে, সেটা বুঝতে আমাদের প্রয়োজন প্রজ্ঞার। তার জন্য আমাদের সক্রিয় সচেতনতাকে শিথিল করতে হবে, ঠিক যেমন আমরা মাংসপেশিকে শিথিল করি। নিজেদের উপর নিজেদেরই চাপানো শর্ত, নিজেদেরই স্থির করে দেওয়া লক্ষ্য, রক্ষণশীলতার অচলায়তন থেকে মুক্ত করতে হবে নিজেদের। সচেতন মন সর্বদা একটা অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার ঘেরাটোপে পড়ে কলুষিত হয়, কিন্তু আমাদের অবচেতন সে কলুষ থেকে মুক্ত। দুর্ভাগ্যের বিষয়, যে এই অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা ধীরে ধীরে আমাদের অবচেতনকেও গ্রাস করছে, আর এক দুরারোগ্য দুশ্চিন্তা, দুরপনেয় শঙ্কার মেঘে ছেয়ে ফেলছে মনের আকাশ--- বিষিয়ে তুলছে আভ্যন্তরীণ চেতনার শিকড়।
      আমাদের প্রথম কাজ হলো, সচেতন আর অচেতন মনের মাঝে একটা পথ তৈরির চেষ্টা করা। যখন আমাদের অবচেতন মন সৎভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে পারবে, আমাদের চেতনাও ধনাত্মকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠবে। আর সেই সক্রিয় সচেতনতা কখনোই তার পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে সংযোগহীন হতে পারে না, কারণ সে তার অনুপ্রেরণা, তার নিজের অবচেতন থেকে কোনো সময়ই আর বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।
      কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, যে অবচেতনকে এতটা আশকারা দিয়ে খোলা ছেড়ে দেওয়া কি যথেষ্ট ঝুঁকির নয়? উত্তর "না" এবং "না"। বহু শতাব্দী ধরে এক ভিত্তিহীন ভয় আমাদের চিন্তাকে স্থবির করে রেখেছে, যে অবচেতন মন হলো সাক্ষাৎ শয়তান। কিন্তু এটা ভুললে চলবে না যে যুগে যুগে কালজয়ী সাহিত্য, শিল্পকলা, এমনকি কত অসাধারণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারও জন্ম নিয়েছে এই অবচেতনের অতল, গহীন গহ্বর থেকে। কিন্তু অবচেতন সম্পর্কে এই নির্বোধ আতংক আমাদের সমাজকে কেবল দিয়েছে ধর্মের অজ্ঞানতা, বোধহীন হিংস্রতা, নিষ্ঠুরতা, কুসংস্কার, জ্যোতিষ, ফেংশুই প্রভৃতি--- মানুষের নির্বুদ্ধিতার চরম কিছু নিদর্শন।
      সুতরাং, আমাদের প্রথম কর্তব্য হলো এই অবচেতনকে সবরকম শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা--- সচেতন গাম্ভীর্যকে পাহারাদারের ভূমিকা থেকে মুক্তি দেওয়া।
      আমাদের আর কোনো পাহারার প্রয়োজন নেই,--- না ঈশ্বরের নামে পাহারা, না নীতিপুলিশির পাহারা, না সংস্কৃতির পাহারা, না মনীষীদের জীবনদর্শনের পাহারা। এই দুমুখো, সুবিধাবাদী সমাজের দ্বিচারিতা দিয়ে তাঁদের যথেষ্ট ভুয়ো শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছি, এবার আপন অস্তিত্বের গভীরে ডুব দেবার পালা, নিজের সত্ত্বার তলকে ছোঁয়ার পালা, আগল ভেঙে বহতা জীবনের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দেবার পালা। তবেই তো দেখতে পাবো, যে সেই অস্তিত্বের আয়নায় নেই কোনো শঙ্কা, কোনো পাহারা, কোনো প্রতিযোগিতার দূষণ। আছে শুধু ভালবাসা, মায়া মমতা আর সক্রিয় স্বতস্ফূর্ততা--- জীবনীশক্তিতে ভরপুর।

      আজ আত্মহত্যা-বিরোধী দিবস। এ দিন উদযাপনের নয়, নয় প্রচারেরও। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেবার--- যে আজ শান্ত প্রজ্ঞার উপর হিংস্র বুদ্ধিমত্তার আক্রমণকে ঠেকানোর দিন, মানুষের স্বাভাবিক মমত্বের উপর আত্মম্ভরিতার আগ্রাসনকে ঠেকানোর দিন, অর্থহীন আত্মরতির হাত থেকে আপন সুস্থ চেতনাকে মুক্ত করার দিন।
      জীবন তার অসংখ্য রঙের, ভিন্ন স্বাদের, প্রিয়- অপ্রিয় সব রকম অনুভব নিয়ে খেলা করুক আমাদের সঙ্গে। আমাদের সক্রিয় চেতনা যেন পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে, তৎপরতার সঙ্গে জীবনের এই চ্যালেঞ্জ হাসিমুখে গ্রহণ করতে পারে।
      জীবনের জয় হোক।

[অনুবাদিকাঃ Sukanya Bandyopadhyay]


Friday, February 23, 2018

১৯


আবহাওয়ার হাবভাব তো দেখো
যেন তোমার সাথে দেখা করে এলো
~ গুলজার

১৮


কেউ গালিবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কেমন আছো গালিব?

গালিব হেসে বলেন,

জীবনে দুঃখ আছে
দুঃখে ব্যথা আছে
সে ব্যথায় আনন্দ আছে
আর সে আনন্দে আমি আছি


Tuesday, December 12, 2017

১৭

"তোমার কি করা উচিৎ
জানতে চাও হৃদয়ের কাছে,
মস্তিষ্ক উপায় বার করে নেবে"
- গুলজার

Monday, December 4, 2017

১৬

আমি এই জন্য তোমার কাছে আসি না, 
      যে তুমি ভীষণ ভালো বলে

আমি এই জন্য তোমায় ভালোবাসি না,
    যে তুমি আমায় ভীষণ ভালোবাসো বলে

আমি এই জন্যে তোমার কাছে আসি,
   কারণ তোমার কাছে এলে,
 
       আমার নিজের ভালো হতে ইচ্ছা করে

আমি এই জন্যে তোমার কাছে আসি, 
      কারণ তোমার কাছে এলে,
       আমার নিজেকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করে


Wednesday, November 29, 2017

১৫

জীবনে পাওয়া তো যায় অনেক কিছুই,
তবে হিসাবে রেখে যায় শুধু না-পাওয়াগুলোই 

~ গুলজার

Wednesday, November 8, 2017

১৪

কে বলল আমি মিথ্যা বলতে পারি না
কেমন আছি, একবার জানতে চেয়ে তো দেখো!
~ গুলজার

Saturday, September 30, 2017

১৩

দস্তয়েভস্কির 'ব্রাদার্স কারামাজোভ' আমার জীবন দর্শনকে দুটো টুকরো করে আছে। এক, প্রাক কারামাজোভ, দুই উত্তর কারামাজোভ। এর বইটা পড়ার পর থেকে সব বই-ই কেমন - "এও বাহ্য আগে কহো" হয়ে গেছে।

        মাঝে ঠিক করেছিলাম ফ্রেঞ্চ বা রাশিয়ান শিখি। তারপর দেখলাম এই বয়সে ওসব শিখতে যে হ্যাপা আর সময়ের দণ্ড যাবে, সেই সময়ে ইংরাজিতে আরো কিছু অসামান্য বিশ্ব সাহিত্যের পাঠ নেওয়া যাবে।
        এক এক সময় ভাবি, ইংরাজি ভাষাটার কাছে ঋণের শেষ নেই। ব্রাদার্স কারামাজোভ, ক্রিটিক অব পিওর রিজিন, রিপাব্লিক, দাস স্পেক জরাথ্রুষ্ট্র ইত্যাদি কে আমার মাতৃভাষায় অনুবাদ করে দিত। যদিও বাংলাদেশে রিপাব্লিক অনুবাদ হয়েছে, তবে মেলা দাম যে!


যা হোক, ব্রাদার্স কারামাজোভ এর একটি ক্ষুদ্র অংশ দিলুম ইংরাজি থেকে.....

"আমি দেখেছি সার্বিক মানবতার উপর ভালবাসা আমার যে হারে বেড়েছে, সেই হারে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিসত্ত্বার প্রতি আমার ভালোবাসা কমেছে । আমার কল্পনায় মানবজাতিকে সেবা করার কত রকম পরিকল্পনা মাথায় আসে, এমনকি সেরকম প্রয়োজন হলে আমি যেন ক্রুশবিদ্ধ হতেও প্রস্তুত। অথচ আমি কোন একজন মানুষের সাথেই একই ঘরে দুদিনের বেশী টিকতে পারি না। এটা আমি আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি। যে মুহূর্তে কেউ আমার কাছাকাছি আসে তার ব্যক্তিত্ত্ব আমার বিরক্তির কারণ হয়, আমার স্বাধীনতা বাধা পেতে শুরু করে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই, এমনকি একজন সার্বিকভাবে ভাল মানুষটাকেও ঘৃণা করতে শুরু করি। তার কারণ, এক হয়তো, সে ডিনার টেবিলে অনেকক্ষণ সময় নেয়, বা হয়তো তার ঠান্ডা লাগার জন্য সে মাঝে মাঝে নাক ঝাড়ে। মোট কথা কেউ আমার কাছাকাছি আসতে শুরু করলেই আমি তার প্রতি বিরুদ্ধভাবাপন্ন হতে শুরু করি। কিন্তু এটা বরাবরই হয়েছে যে, আমি যত বেশী করে ব্যক্তি মানুষকে ঘৃণা করতে শুরু করি তত বেশী আমার মানবতার উপর ভালোবাসা বাড়তে থাকে।"



Tuesday, June 13, 2017

একাকীত্ব

এবার কি কেউ এল? কেউ আসেনি, হে আমার সন্তপ্ত হৃদয়
হয়ত কোন পথিক ছিল, চলে যাবে অন্য কোথাও, তার নিজের পথে।
রাত ফুরিয়ে এলো, তারাদের আলোর মায়া হয়ে এলো ম্লান
প্রদীপের স্বপ্ন-শিখা কাঁপছে থরথর দুরন্ত হাওয়ায়
পথিকের পদধ্বনি শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছে পথ
 
নাম না জানা ধুলোরা ঢেকে দিয়েছে তাদের পদচিহ্ন

প্রদীপটা নিভিয়ে ফেলো, ওগো আমার সন্তপ্ত হৃদয়
পেয়ালা ভেঙে ফেলো, মুছে ফেলো সব মদিরার স্মৃতি
 
নিজের স্বপ্নহীন দরজা করো রুদ্ধ
 
এখন এখানে আর কেউ আসবে না
কেউ-ই আসবে না

ফৈজ

১২

গভীর রাত। তোমার বিস্মৃতপ্রায় স্মৃতিরা বুকে এসে ভিড় করল। কোনো কারণ ছিল না, এমনিই। 
যেন শুকিয়ে যাওয়া বাগানে গোপনে এল বসন্ত 
যেন ভোরের শীতল বাতাস মরুভূমির বুকের উপর দিয়ে গেল বয়ে
যেন দীর্ঘ অসুস্থতার পর, একটু স্বস্তি পেলো কেউ, অকারণে, এমনিই।

~ ফৈয়জ আহমেদ ফৈয়জ

১১

রাত্রির গভীর অন্ধকারের বিষাদে আমার কাছে থাকো
    ওগো আমার ঘাতক, ওগো আমার বঁধু
                 আমার কাছে থাকো

~ ফৈয়জ আহমেদ ফৈয়জ

Tuesday, May 2, 2017

১০

কত হাজার বছরের পুরোনো কথাটা, তবু কতটা জরুরী...
"মুশকিলটা হল যারা শিক্ষক তারা জীবনবোধের শিক্ষা না দিয়ে বাকসর্বস্বতার শিক্ষা দিচ্ছেন। আর যারা শিখতে আসছে, অর্থাৎ ছাত্রছাত্রীরা, তারা চিত্তের উৎকর্ষের শিক্ষা ছেড়ে বুদ্ধির সুক্ষ্মদর্শীতার শিক্ষার পিছনে ছুটছে। ফলস্বরূপ যে দর্শনের উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞানান্বেষণ সে এখন শব্দান্বেষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন আর ফিলোজফি নেই, এখন সব ফিলোলজী।" 

~ সেনেকা