বাংলা
দিনপঞ্জী অনুযায়ী এটা আশ্বিন। কিন্তু প্রকৃতির কি সে খেয়াল আছে? প্রকৃতির ক্যালেন্ডারের সাথে আমাদের
ক্যালেন্ডার আর কবে মিলল?
তাকে যতই বোঝাও, দেখো বাপু, আমাদের পূজোর কেনাকাটা আছে, প্যাণ্ডেল বাঁধার কাজ আছে, তাছাড়া আমাদের মাটির ঠাকুর - কাঁচা মাটিকে শুকিয়ে পাকা করতে হবে, তাতে রঙ করে তাও শুকাতে হবে... মেলা কাজ। তা এই সময় এমনধারা রঙ্গ করলে চলে? তাছাড়া তোমারও বাপু কাশফুল ফোটানোর বহর কিছু কম নয়, তার বেলা?
এ কিরকম
এক মুখে দুই কথা হয়ে গেল না? একদিকে কাশফুল ফোটাচ্ছ, আকাশকে এমন নীলে ছোপাচ্ছ যে চোখ ফেরানো
দায়, বাতাসেও তো শরতের গন্ধ মাখিয়েছিলে মনে হচ্ছিল...
তারপর হঠাৎ কি হল? শ্রাবণের সাথে কি শরতের মুখোমুখি
মোকাবিলা দেখতে চাও? শরৎ বেচারী তোমার শান্ত স্নিগ্ধ,
কোমল রসে টইটুম্বুর, কিন্তু তোমার
শ্রাবণ? সে তো মত্ত দামাল! পারে এ বেচারী ওর সাথে! তাই
দিয়েছে নিজের সাজানো খেলাঘর ওর হাতে ছেড়ে। শ্রাবণ দিচ্ছেও সব লণ্ডভণ্ড করে
ইচ্ছামত। তুমি নিষ্ঠুর উদাসীনের মত দেখছ। জানোই তো কি হবে শেষে!
আমাদের সংসারেও কি এরকম অনাহুত
বিপত্তির উদাহরণ কম? দেখছো না, পৃথিবীর
পশ্চিমপ্রান্তে কাতারে কাতারে মানুষ আজও নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে, প্রাণপণে দুগ্ধপোষ্য শিশুটাকেও কোলে করে এ দেশ ও দেশের দরজায় করাঘাত
করে ফিরছে - শুধু বাঁচবে বলে? কেউ সাড়া দিচ্ছে, কেউ নিষ্ঠুর হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছে। সমুদ্রের পাড়ে ভাসছে শিশুর প্রাণহীন
শরীর। সে হয়তো তার আগের মুহুর্তেও এটাকে খেলাই ভেবেছিল?
হয় হয়, এরকম
বারবার হয়। সাজানো গোছানো সংসারে আচমকাই এইভাবে রুদ্র এসে দাঁড়ায়। ঠেকাবে কি করে?
এ যে মহাকালের খেলা; যাকে মহাপুরুষেরা
বলেন লীলা - সে সৃষ্টিরই হোক, কি ধ্বংসেরই।
No comments:
Post a Comment