হঠাৎ কে বলল, "এতবড় আকাশটা অপচয় হল শুধু।" কে বলল? এদিক
ওদিক তাকালাম। চারদিকে ধু ধু মাঠ। দিগন্তে সাদা সাদা মেঘ, হঠাৎ দেখলে মনে হবে, আরে
একি? কোন চিমনির ধোঁয়া? কয়েকটা বক উড়ে যেতে যেতে বলে গেল, এতবড় আকাশটা অপচয় করলে শুধু।
মানুষ সব কিনেছে, সব বুজিয়েছে, পাগলের মত মানুষে মানুষে ভরিয়ে দিতে চাইছে সব, শুধু
আকাশটাকে বাগে আনতে পারছে না। যতই ওঠে ফুরাতে আর চায় কই? তাই মানুষ আকাশ ছেড়ে মাটিতেই
চাষ করছে, মানুষ চাষ করছে। চারদিকে অযুত নিযুত লক্ষকোটি মানুষ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বোমার
মত ফাটছে। ছড়িয়ে পড়ছে হুহু করে মানুষ।
এসব কথা শুনতে শুনতে হঠাৎ আমার মনে পড়ল, তাই
তো, আমার ক'টা জায়গায় ইট পাতা আছে না? সেখানে দাঁড়াতে হবে তো? আঙুলের কড় শেষ হল, ইটের
সংখ্যা শেষ হল না। দামী গুরুত্বপূর্ণ, মাঝারি গুরুত্বপূর্ণ, আর এলবেলে গুরুত্বপূর্ণ
অনেক ইট রাখা এখানে সেখানে। একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হল। ইট আর আকাশের দ্বন্দ্ব। বুড়ো বকটা
বলল, প্রাচীন দ্বন্দ্ব।
বকেরা আবার বলল, এ দ্বন্দ্ব চালাকির দ্বন্দ্ব।
মানুষ তো চালাকই। সব মানুষ চালাক। এর চালাকি ও ধরে ফেললে সে বুদ্ধিমান চালাক। মানুষ
শেষ হলেও চালাকিটা রেখে যায়, তার নাম ডিগ্রী। নিতেই হয়। আমারও আছে, অন্যের থেকে আমি
যোগ্য বেশি বোঝানোর চালাকি। আমার খিদে, আমার মৈথুন, আমার ভয়, আমার বাসনা, আমার ইচ্ছা
ইত্যাদি তোমার থেকে দামী বোঝানোর তরকিব ওটা - বুদ্ধিমান চালাকি - আসলে কিন্তু সব মানুষই
সমান, এটা বলাই সবচেয়ে বড় কথা। ভুতে বিশ্বাস হয়? আর ভগবানে? তবে? ওসব কথাও সেরকম কথাই
আর কি! আসলে ভুতে যতটা সহজে বিশ্বাস হয় ভগবানে হয় না, যে কারণে তুলসীদাস বলল না, বিষ
দেখা যায়, অমৃত শুধু শোনাই যায়। কি বাজে কথা!
কোথাকার কথা কোথায় আনল। আকাশটার কথা হচ্ছিল।
অপচয়ের কথা হচ্ছিল না? হ্যাঁ তো! আকাশ আর মানুষ দুটোই বড্ড অপচয় হচ্ছে, জলের মত বেরিয়ে
যাচ্ছে সব হাতের ফাঁক দিয়ে। কি বেরিয়ে যাচ্ছে?
বাঁধ দেবে? হাতটা দেখি? হাতের রেখাগুলো দেখি?
ওতে কি মাখা? জলের দাগ নেই তো? জলের মত বেইমান কিছু হয় না। সেখানে আকাশের ছবিও ভাসে,
আবার চাঁদ সূর্য - সবের ছবি ভাসে। যেন সব ওর ঘরের লোক। ধরতে যাও, হে হে, বুঝবে সব ফাঁকি,
সব, সব। জলের দামে সবাই কিনতে চাইছে সব, তবু সব অধরা থাকছে জলের দামেই।
বড্ড অপচয় হচ্ছে সব। আকাশ, মানুষ আর সময়। রাস্তা
নেই। ইউটার্নে ফিরছে সব। তবু ওই মোড় অবধি তো যেতেই হবে। তারপর রাস্তা যদি ঘোরে।
No comments:
Post a Comment