হাওড়া স্টেশান ছেড়ে ট্রেনটা যখন বেরোয় রাত্তিরবেলা কি সন্ধ্যেবেলা, ওই হলুদ হলুদ,
কমলা কমলা আলোগুলো দেখলে আমার ভীষণ মন খারাপ করত ছোটোবেলায়।
এখন
করে না।
সন্ধ্যেবেলায় যখন চারদিকে শাঁখ বাজত, ঘন্টা নাড়ার আওয়াজ আসত,
আকাশটা শেষ আলোর রেখাকে 'যেতে নাহি দিব' বলে আঁকড়ে রাখতে চাইত বুকে, আমার বুকের
ভিতরটা ফাঁকা হয়ে যেত।
এখন হয় না।
মা অনেকক্ষণ রান্নাঘরে কিম্বা পাশের বাড়ি থাকলে। অথবা আমি অনেকক্ষণ
বাইরে থাকলে, মনটা ছটফট করত।
এখন করে না।
এখন ভয় করে না। ভীষণ ভালোবাসা পায় না। মন খারাপ করে না। শুধু দেখি।
কষ্ট পাই। মন্দিরের বাইরে ভিখারির লাইন, দূর্গাপূজোয় একা ঘরের জানলা ধরে দাঁড়ানো
বৃদ্ধ-বৃদ্ধার মুখ, ফুটপাথে গভীর রাতে শুয়ে থাকা পরিবার, তার পাশে ক্রসিং দাঁড়ানো
রঙচঙ মাখা মুখ, অকালমৃত সন্তানের মায়ের তবু বাজারে বাজারে ঘোরা - কষ্ট পাই।
কেউ আশার কথা বললে, মুখ ফেরাই।
কেউ ভয়ের কথা বললে, হাসি পায়।
কেউ স্বপ্নের কথা বললে, করুণা লাগে।
কেউ ভয়ের কথা বললে, হাসি পায়।
কেউ স্বপ্নের কথা বললে, করুণা লাগে।
তবে কি সব মিথ্যা?
একটু খানি সত্যি। বাকি সব তুলোর পাহাড় - ফুঃ!
মানুষের সব চাইতে বড় আশীর্বাদ - মানুষ আরেকটা মানুষকে অনুভব করতে
পারে। কল্পনা না, অনুমান না, অনুভব করতে পারে।
মানুষের সব চাইতে বড় দায় - মানুষ আরেকটা মানু্ষকে অনুভব করতে পারে।
কল্পনা না, অনুমান না, অনুভব করতে পারে।
মানুষের সব চাইতে বড় ভরসা - হ্যাঁ একই কথা। সে পরকে নিজের মধ্যে
অনুভব করতে পারে।
বাকি সব কল্পনা। মিথ্যা। বানানো। বোগাস। শিশুর খেলনা। পাগলামি।
No comments:
Post a Comment