প্রোফাইল পিকের প্রতিবাদের ধারার সাথে
সহমত হই না হই, কিন্তু এমন বিশাল আলোড়নকে হৃদয়ের উষ্ণতম অভিনন্দন না জানিয়ে স্থির
থাকতে পারছি না। খুব উত্তেজিত আর আশান্বিত হচ্ছি। এই স্পিরিটটা যেন হারিয়ে না যায়।
প্রতিটা যুগেই কোনো না কোনো একটা অন্ধকার অত্যন্ত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ইতিহাসে সে
লড়াইটার ছবিই দেখেছি। সেকালেও অনেকে বলেছিল কিচ্ছু হবে না, তবু হয়েছে। মুশকিলটা হল
মেনে নেওয়ার অভ্যাস। চুপ করে থাকার তামসিক জড় প্রবৃত্তি।
এখানে একটা কথা বলতে চাই। যেটা নিয়ে
সত্যিই ভাবা দরকার। আমি বেশ কিছুমাস আগে BBC-তে
দেখেছিলাম, সম্ভবত শেয়ারও করেছিলাম। পড়াতে গিয়ে আমার নিজের অভিজ্ঞতাও তাই।
বহুছেলের মেয়েদের যৌনতার বিষয়ে ধারণা জন্মায় পর্ণ থেকে। সাহিত্য পড়ার অভ্যাস নেই
আর সামাজিকভাবে সুস্থ খোলামেলা (মানসিক)
সম্পর্ক তৈরি করার সুযোগ নেই বৃহদাংশে। ফলে একটা মেয়ের মানসিক ও আবেগের সাথে
গভীরভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নেই। তার জায়গায় তাদের মেয়েদের যৌনতার একটা শারীরিক
আবেদন, যাও বহুলাংশে কৃত্রিম, তার সাথে পরিচয় ঘটে যায় পর্ণ থেকে। প্রতিটা মেয়েই
যেন যৌন কামনায়, আকাঙ্ক্ষায় মুখিয়ে আছে। যেভাবে পর্ণে দেখানো হয়। এবং যা যা তারা
সে সময়ে করে, (slave শব্দটা বহুল প্রচারিত) সে সমস্ত করার জন্যেই তারা আগ্রহী,
শুধু সুযোগের অপেক্ষা - এমনই ধারণা বহুলাংশের। সেখানে কাউকে সুযোগ দেওয়া হলেও যদি
সে প্রত্যাখান করে তখন একজন পুরুষভাবে মেয়েটা লজ্জা পাচ্ছে, বা সংস্কারে আটকে
যাচ্ছে, বা আরো কিছু একটা। কিন্তু মেয়েটা 'না' বলছে মানে 'হ্যাঁ'। মেয়ে মানেই তো
সেই একধারার গতানুগতিক যৌনক্রীড়া। তাতে সে রাজী হবে নাই বা কেন?
সেই মাত্রায় যৌনশিক্ষা, ১৮ বছর বয়সটাকে
আরো কমিয়ে আনা, সঠিকভাবে শিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ করা - এগুলো ভাবতেই হবে এবার। তার
সাথে আমাদের পাঠ্যে, মহাপুরুষদের বাণী থেকে মধ্যযুগীয় ধ্যান-ধারণাগুলোকে ভারতীয়
ঐতিহ্য হিসাবে প্রচারিত করা আইনত নিষিদ্ধ করা। এই তৃতীয়টার একটা বড় উদাহরণ
'নির্ভয়া' তথ্যচিত্র। কি সাংঘাতিকভাবে অতিশিক্ষিত ব্যক্তির মাথাতেও সেসব মধ্যযুগীয়
ধারণা গুরু-অবতার মাধ্যমে ঢুকে বসে আছে তা ভাবলে অবাক লাগে। এমনকি সিংহভাগ মেয়েরাও
তাই বিশ্বাস করে। আমাদের আরো বেশি গৌরি লঙ্কেশ, কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়, গায়ত্রী
স্পিভাকের প্রয়োজন। শিক্ষা সম্পূর্ণ তবে হবে যখন womanhood শব্দটার আর প্রয়োজন বোধ
করবে না কেউ ব্যবহার করার। যেমন আগের actress লেখা উঠে actor লেখাটা উঠে এসেছে।
Human শব্দটাই প্রধান ও একমাত্র হয়ে থাকবে।
আমাদের আরো সিরিয়াস হতে হবে। সত্যিই
আরো সিরিয়াস হতে হবে। শুধু স্কুলের শিক্ষা নয়, একটা বাড়িতে ছেলেকে মেয়েকে কি করে
বড় করব তাতে নিজের সংস্কার আর instinct এর উপর শুধু নির্ভর না করে আরেকটু
methodical হতে হবে।
আমি বহু বছর হল শিক্ষকতার সাথে আছি।
দেখেছি ছেলেরা তাদের যৌন জীবন নিয়ে আজব সব ধারণা পুষে রাখে। না তো বাবাকে বলতে
পারে, না স্যারকে। মেয়েরা যদিও তাদের মায়েদের সাথে অনেকটা ফ্রি। আমি দেখেছি তাদের
জড়তা আড়ষ্ঠতাটা ভেঙে দিয়ে, একটু আন্তরিকতার সাথে তাদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হলে
তারা অনেক সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে। তার নিজেকে নীচে নামাতে হবে, ওদের পর্যায়ে।
"আমি গুরুমশায়' এই ঘ্যাম ছাড়তে হবে। নর্দমা পরিষ্কার করতে গেলে আমি নর্দমায়
নেমেই কাজ করাতে বিশ্বাসী। আমার মত একটা অতিক্ষুদ্র, স্বল্পজ্ঞানী, তুচ্ছ মানুষ
যদি একটু আন্তরিকতা আর কিছুটা পড়াশোনার মাধ্যমে এইটুকু পরিবর্তন ঘটাতে পারি, তবে
একটা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় না জানি কতটা হতে পারে। হবে না আমি বিশ্বাস করি না। শতাংশে
হয় না, তবু যতটা হয় ততটাই বা কম কি?
No comments:
Post a Comment