Monday, April 9, 2018

জীবন-বেদ


হাওয়ায় ওড়া চুল সরাতে সরাতে
   যে মানুষটা মোহনার মুখে দাঁড়িয়ে আমার কাঁধে হাত রেখেছিল
সে পুরুষ না নারী আমি জানি না-

যা বলেছিল সে তার জীবনবেদ, 
   তার সারসংক্ষেপ যদি করি,

জীবন মানে -

শুকিয়ে আসা পায়ের ঘায়ে, কালো রক্তের আলপনা নিয়ে
আধখানা জ্যোৎস্নায় খাওয়া ফুসফুস
আধখানা শিশিরে পোড়া হৃৎপিণ্ড আঁকড়ে,
 
সমুদ্রের তটে দাঁড়ানো
    নিজের অসম্পূর্ণ, বিকৃত ছায়ায় ভর দিয়ে

তারপর -

একটা ভালোবাসায় খোঁচানো অন্ধ চোখ
আরেকটা ঈর্ষাম্লে ঝাপসা চোখে দিগন্ত দেখতে চাওয়া

শরীর - আত্মার বিবাদ বধির একটা কান, 
আরেকটা অর্ধেক পর্দা ধর্ম বিশ্বাসে খাওয়া কান দিয়ে সমুদ্রের গর্জন শুনতে চাওয়া

শালীনতার চাপে পাথুরে হওয়া স্বাদকোরকের 
       ফাঁকে ফাঁকে
অশ্রু আর সমুদ্রের ফারাক বুঝতে চাওয়া

সভ্যতার তাপে সারা গায়ে পড়া রক্ত-পুঁজ ফোস্কার উপর 
সাত সমুদ্র ছোঁয়া বাতাসের স্পর্শ পেতে চাওয়া

অবশেষে নাভিতে রাখা
মরুঝড় ভাঙা নীড়ে
 
   ধুঁকতে থাকা শাবকগুলোকে
        আদর করতে করতে
    পিছনে ফিরে দেখা -
         আগামী প্রজন্মের অপেক্ষায়

    শাবকদের চোখে পরশ-পাথর
         তাদের হাতে তুলে দিয়ে যাওয়ার
 
              অঙ্গীকৃত হওয়া

No comments:

Post a Comment