এককালে আমার ছাত্র ছিল। এখন বন্ধু, খুব কাছের, আদরের আমার। একটা বেশ নামকরা
মাল্টিন্যাশেনাল কোম্পানিতে কাজ করে এখন। আমায় খানিক আগে লিখে পাঠালো -
"আমায় খুব কষ্ট করে বড় করেছেন মা আর বাবা। বাবার ফলের দোকান, মা অন্যের বাড়ি কাজ করতে যান। আমার স্বপ্ন ছিল যে আমি যেদিন প্রতিষ্ঠিত হব
সেদিন থেকে মাকে আর কাজে যেতে হবে না।
আমার চাকরি হল। প্রথম মাসে মাইনে পেলাম। মাকে এসে বললাম, মা তোমায় কাল থেকে আর কাজে যেতে হবে না।
মা আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন, বললেন, আমি যদি স্কুল টিচার কিম্বা একজন উকিল হতাম তুই কি একই কথা বলতিস?
আমি চুপ করে গেলাম। কি উত্তর দেব? একটা জিনিস হল,
আমার মায়ের প্রতি আর তার কাজের প্রতি আরো সম্মান বেড়ে গেল। মা যা
করেন ভালোবেসে করেন, শ্রদ্ধা নিয়ে করেন, কাজ তো কাজই বলো না দাদা?"
শ্রদ্ধা আমারও বাড়ল। সাথে বুকে চিনচিনে একটা
ব্যথাও হল। আমার নিজের একটা ঘটনা মনে পড়ল। স্কুলে পড়ি। খুব ছোটো নই, ইলেভেন টুয়েলভ হবে। পাড়ার কাকিমার মেয়ের জন্মদিন। মাকে বললাম, টাকা দাও একটা বার্বি কিনে আনি। মা রান্না করছিলেন। আমার কথাটা শুনে,
গ্যাসটা সিম করে, আমার দিকে ফিরে বললেন,
কেন, মেয়ে বলে? বইয়ের
কথা ভাবা যায় না? অন্যরকম ভাবতে শেখো..
মায়ের ডানহাতে হলুদ লাগা খুন্তি, মুখে ঘাম, সিঁদুরটা ঘামে ঘেঁটে, চোখদুটো চশমার ফাঁক দিয়ে আমার
দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে। 'সেভেন ইন্ডিয়ান ক্ল্যাসিক্সস'
কিনে আনলাম। মা ভীষণ খুশী।
সত্যিই অন্যরকম ভাবতে শিখতে হবে। শেখাতে হবে। নিজে না নড়লে অন্যকে ঠেলা
দিই কি করে?
আমার উক্ত ছাত্রের মাকে প্রণাম জানাই।
No comments:
Post a Comment