সারাদিনের সবার পাই পাই পয়সার হিসাব বুঝিয়ে
দিয়ে যখন বাড়ি ফিরি তখন বাজার বন্ধ। রাস্তা শুনশান। যে কুকুরগুলো দিনেরবেলায় ভিড়ের
ঠেলাঠেলিতে কোনোরকমে এর ওর গা বাঁচিয়ে, মার বাঁচিয়ে চলে, তারা এই সময়টায় রাজার মত বুক
ফুলিয়ে হাঁটে। রাস্তার উপর পড়ে থাকা আমগাছের পাতা, শিরীষ
গাছের ফুলগুলো এই সময়টায় বুঝতে পারে, বাতাস তাদের ভোলেনি,
এখনও দক্ষিণদিক থেকে আসে তাদের সাথে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলবে বলে, উড়িয়ে নিয়ে যাবে বলে। আজ তো পুরোদস্তুর কালবৈশাখিই হয়ে গেল। কোথাও তার
ছিঁড়েছে, অন্ধকার চারদিক, কারেন্ট নেই,
বাজারের চার মাথার মোড়ে, মহাত্মা গান্ধীর
মূর্তিটার তলায় শুয়ে সেই পাগলটা, যে পৃথিবী যেদিন সূর্যের
থেকে প্রথম ছিটকে এসেছিল সেদিন জন্মেছিল, তারপর কি করে,
কি করে যেন পাগল হয়ে গেল।
আমি হাঁটছি। উদ্দেশ্যহীন ভাবেই হাঁটছি।
রাতের কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। নির্জনতায় কখনও নিঃসঙ্গ হওয়া যায় না, হাঁটতে জানলে। কোনো মোড়ের মাথায় কারোর
অপেক্ষা নেই। তারাদের মত আমিও আমার কক্ষপথ ঘুরছি, একা,
পুড়তে পুড়তে, ক্ষইতে ক্ষইতে, তারাদেরই মত।
No comments:
Post a Comment