রামমোহন, বিদ্যাসাগর প্রমুখ মানুষদের আমরা মহাপুরুষ
বলি। কেন? না বহু পুরুষের (এক্ষেত্রে পুরুষ মানে মানুষ অবশ্যই) অনুভব তাঁদের অনুভবে
বেজেছিল বলে। বহু মানুষের সত্তাকে যিনি নিজের সত্তার মধ্যে অনুভব করেন, তিনি মহামানব।
বেশ,
আমাদের মহামানব হতে হবে না, পাড়ামানব হতে পারি না? কি বলতে চাইছি? আচ্ছা ভেঙেই বলছি।
আমার
এক পরিচিত মানুষ, তার আটত্রিশ বছর বয়সে বিধবা হলেন। তিনি বিজয়ার দিন মণ্ডপে নিজেকে
বাঁচিয়ে চললেন, আর পাড়ার লোক তাকে সরিয়ে বাঁচল। ব্যপারটা খুব সুক্ষ্মভাবেই হল। চোখে
পড়ার মত নয়। একজন ষোড়শী যখন সিঁদুরের ডালা নিয়ে তার কাছে গিয়ে বলল, লাগাই না
একটু? সে সরে গিয়ে বলল, "না রে"। সুরে অভিমান বাজল।
এখন সিঁদুর খেলার দরকার কি, এ নিয়ে আমি তর্কে
যেতে চাই না। কিন্তু যারা যাচ্ছেন, তারা যদি পাড়ার বিধবা মানুষগুলোকে একটু ডাকেন, একটু
জোর করেই আবদারের সাথে ডাকেন, তবে আরেকটা বেড়া ভাঙে। ভালোবাসার জোরই একমাত্র জোর যা
প্রাণের উৎস থেকে জন্মায়। বুদ্ধিবৃত্তি তার দাস মাত্র। সে জোরেই যুক্তি জন্মায় আবার
ভাঙে। ভয় কাটে। জড়তাটা ঘোচে।
আরেকটা কথা, এর সাথেই বলে রাখি, পৈতে বলে একটা
অনুষ্ঠান হয়। পারলে ওটাকেও আমরা ধীরে ধীরে উৎখাত করার কথা ভাবতে পারি। আপনি বলবেন ওটা
আমাদের কালচার, মানে সংস্কৃতি। আমি বলি, দাদা মাঠে হাগা, চুল্লীতে রান্না, কলাপাতায়
খাওয়া, বালিকাবিবাহ ইত্যাদি নানা সংস্কৃতি আমাদের ছিল। এখন নেই। আপনি যতই শাক দিয়ে
মাছ ঢাকার চেষ্টা করুন না, ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আপনি অকারণে এক মানুষকে অন্য মানুষদের
থেকে উঁচুতে বসাচ্ছেন। হ্যাঁ অকারণে, এই শব্দটাতেই আপত্তি মহাশয়েরা। মানুষে মানুষে
পার্থক্য থাকবেই। সে তার গুণে, প্রতিভায় প্রকাশিত হোক। সে আমরা সক্কলে মেনে নিই, কিন্তু
বর্ণাশ্রমকে জাগিয়ে রাখার এই নির্দোষিতার আবরণে, বন্ধ হলে হয় না?
রামমোহন, বিদ্যাসাগর আজকের দিনে জন্মালে এই কথাগুলোই
হয়ত আমাদের বোঝাতে চেষ্টা করতেন। "যেই মানব আমি সেই মানব তুমি কন্যা, সেই বারি
তীর্থবারি যা তৃপ্ত করে তৃষিতেরে"।
তবে আর পার্থক্য টানাই বা কেন? আর কাউকে দূরে
রাখাই বা কেন? এই স্বচ্ছতার অভিযানটুকু আর শুরু না করলেই নয়, দেরি হয়ে যাচ্ছে। এও তো
me too... না?
No comments:
Post a Comment