অ্যালজাইমার্স রোগটা কি মজার না? দারুণ মজার।
এটা নিয়ে কি দারুণ সব সিন বানানো যায় না সিনেমায়? এই ধরুন
রুগী বিশেষ কাউকে চিনতে না পেরে তাকে যা তা নামে ডেকে ফেলছে। সেই নিয়ে হলশুদ্ধ লোক
হাসিতে ফেটে পড়ছে। এরকম আরো সব হাসির রোল তোলা দৃশ্য বানিয়ে ফেলা যায় অনায়াসে।
তবে শুধু কি
মজা? সেন্টিমেন্টাল সুড়সুড়ি নেই? এই যেমন
বরকে চিনতে পারছে না। তার জন্য সেকি সব এলাহি ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মানে যে যে
ব্যবস্থা করা গেলে গান ঢোকানো যায়, দর্শকরা থেকে থেকেই রুমাল
বার করে ফ্যাঁচফ্যাঁচ করবে। করা যায় না? যায় যায়। এসবই যায়।
আর আমাদের বাঙালিদের সেন্টিমেন্ট তো রিখটার স্কেলে আট নয় ছুঁয়েই আছে। সামান্য
দোলাতেই ভূমিকম্প হয়ে যায়।
আপনি বলবেন
ওহে, কমার্শিয়াল সিনেমায় এসব করতে হয়। তা যতই তাতে সৌমিত্র,
স্বাতীলেখার মত শিল্পীরা তাদের শেষ কাজে তথাকথিত
"যুগান্তকারী" অভিনয় করে থাকুন না কেন। দর্শকের মনোরঞ্জনের জন্যেই তো।
দেখুন আমি
হলিউডের রবিন উইলিয়ামস ও রবার্ট ডি নিরোর 'অ্যাওকেনিং', অ্যান্থনি হপকিনস এর 'ফাদার', রাসেল
ক্রোর 'বিউটিফুল মাইণ্ড', কেট
ব্ল্যাঞ্চেটের 'ব্লু জাস্মিন' এর তুল্য
সিনেমা বলছি না। এগুলো সিরিয়াস টোনের সিনেমা। কিন্তু এগুলো কি? যাত্রা, না সিরিয়াল, সিরিয়াস
না কমেডি, না মশলা… কি এগুলো?
স্নায়বিক
রোগে মানুষের ব্যবহারে অনেক বিকার আসে। বহু অত্যন্ত উন্নত মানের সিনেমা সে নিয়ে
হয়েছে। উপরে যে মাত্র কয়েকটার নাম বললাম। কিন্তু সেই নিয়ে এরকম "মজার"
দৃশ্য? এরকম সেন্টিমেন্টাল গেম খেলাটা মনে হয় রুগী আর তার বাড়ির
লোকের সঙ্গে ভীষণ অন্যায় করা হয়। "সামাজিক ইস্যু" অনেক তুলে আনতেই
পারেন। কিন্তু তাকে তার যথাযথ মর্যাদায় না উপস্থাপিত করে, শুধুমাত্র
একটা জাতের দুর্বল সেন্টিমেন্টকে পুঁজি করে ব্যবসা চালানো যায় হয় তো, কিন্তু সত্যকারের দায়বদ্ধতার কাছে মাথা নীচু হয়ে যায়।
অনুগ্রহ করে
কোনো অসুস্থতার সিরিয়াসনেসকে কাজে না আনতে পারলে, না আনি,
কিন্তু তাকে নিয়ে ব্যবসার ফিকির যেন না খুঁজি, ছদ্ম সামাজিক ইস্যুর মোড়কে।
No comments:
Post a Comment