তো রাজামশায়
সক্কালবেলা দূতের মাধ্যমে জানলেন আজ কবিতা দিবস। তিনি সভাকবি আর নির্দিষ্ট কয়েকজন
রাজ কর্মচারীদের বললেন কবিতা লেখ। যার কবিতা ভালো হবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।
কিভাবে? না রাজার সঙ্গে সেল্ফি তোলার সুযোগ দেওয়া হবে আর রাজার কবিতার
বই দু খণ্ড দেওয়া হবে ফ্রি-তে। তৃতীয় খণ্ড থেকে অষ্টম খণ্ড অবশ্যই কিনে নিতে হবে।
হ্যাঁ, কিনে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
সবাই লেগে
গেল কবিতা লিখতে। সে কি আওয়াজ! রাজবাড়ি কেঁপে কেঁপে উঠছে খসখস, ঘষঘষ আওয়াজে।
এদিকে বাইরে
যারা কাজ করছিল, মানে শ্রমিক, চাষা,
ধোপানাপিত, জেলে, ডোম...
সবাই গেল থমকে। সবাই বললে, ও কিসের আওয়াজ গো?
রাজার
সেপাইয়েরা বললে, রাজার বাড়ি কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা
হচ্ছে.... আজ বিকালে রাজা ফলাফল নিজের মুখে ঘোষণা করবেন।
সবাই বলল, তাই? আমরা লিখব না?
সেপাই বলল, মারব বল্লমের খোঁচা.... কোনোদিন মঞ্চে উঠল না... বোক্তিতা দিল না.... সভা
করে আলোচনা করল না... 'কি কবিতা আর কি কবিতা নয়'.. এই নিয়ে.... এরা এসেছে কবিতা লিখতে..... যা... ভাগ! ভাগ!
তো যে যার
কাজে তো লেগে গেল। এদিকে বিকেল হল। রাজা মশায় কুলকুচোটুচো করে বসলেন ফলাফল ঘোষণা
করতে।
এদিকে
অন্দরমহলের খবর রাজার কাছে সব কবিতাই সমান লাগে। রাজা খালি দেখে শেষে মিল আছে কিনা, আর মিল না থাকলে নিজের দু:খের কথা লেখা আছে কিনা। সব কবিতাতেই কিছু না
কিছু পাওয়া গেল। তাই সব্বাই প্রথম হল।
এদিকে
রাজাবাড়ির সামনে বেজায় ভিড়। সবাই কবিতা শুনতে চায়। থিক থিক করছে লোক। সব্বাই বলছে
আমরা শুনব... আমরা....
কবিরা সব
ঘামতে শুরু করেছে। রাজার কাছে নকল কান্না, নকল ভাবনা, নকল সহমর্মিতার শিরোপা পাওয়া যায়... কিন্তু জনগণ? এ
ওকে ঠেলে, সে তাকে ঠেলে... কেউ যায় না। এদিকে রাজা ভাবছেন এত
বড় দেশে কেউ না কবিতা পড়লে অন্যের দেশের কাছে মান থাকে কি করে? কিন্তু কেউ তো ওঠে না! উপায়?
রাজার দেশে
অনেক বুদ্ধিজীবী ছিল। তাদের বুদ্ধি ছাড়া বাকি সব মিইয়ে গেছে। না কানে শোনে, না চোখে দেখে। রাজা তাদের দিল মঞ্চে তুলে। তারা মঞ্চে উঠে এমন সব হাউমাউ
করে বলতে শুরু করল সবাই পালালো। পরেরদিন কাগজে বেরোলো কবিতার অনুভবে কাতর হয়ে
দেশবাসী বাড়ি গিয়ে সব নিদ্রা গিয়েছেন। সমস্ত দেশ জুড়ে কবিতা সরস্বতী লক্ষীর পিছু
পিছু নিশ্চিন্ত মনে হাত ধরে ঘুরেছে।
No comments:
Post a Comment