রেল দুর্ঘটনাটার পর অনেকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। অবশ্যই ভয়াবহ সে বর্ণনা।
একজন মহিলা বর্ণনা করতে গিয়ে বারবার
উল্লেখ করছেন, তারা সবাই এ ওয়ানে ছিলেন। অর্থাৎ এসি টু টায়ার। রেল বগি উলটে যাওয়ার
পর তারা অপেক্ষা করছিলেন কোনো রেলের আধিকারিকের জন্য, যাতে তারা বলেন তাদের তখন কি
করণীয়, কামরার ভিতরেই থাকবেন, নাকি বাইরে আসবেন। কারণ বাইরে তখন সবাই চুরি করছে। কারা?
সব লোকাল লোকেরা। তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে সব লুটপাট করছে।
এবারের পুলিৎজার প্রাপক বিখ্যাত লেখিকা,
বারবারা কিংগসোলভার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই এক অন্য আমেরিকার গল্প
শুনিয়েছেন। বলছেন, "As an Appalachian myself, I feel a strong sense of duty
to represent my people with respect, with nuance, with dignity. In the rare
times that we show up in mainstream culture, we are a bad joke - the dumb,
ambitionless, ignorant, and bigoted hillbillies who live in trailer parks. I
have come up against that stereotype pretty much all my life. So, my goal as a
writer is to present us with more nuance - yes, we have poverty, we have
addictions, we have problems, but we have so much more…. our culture is
beautiful and powerful. We are storyteller; we have our own music; all kinds of
arts have come from Appalachia."
অবশ্যই চুরি হয়েছে। হয়ও। কিন্তু সেটাই
শুধু দেখা বড্ড একপেশে দেখা। ওই মর্মান্তিক মুহূর্তে ওটাই চোখে পড়া, ওটাকেই আরো চারদিন
পর বারবার করে বলা, মানে একটা অভ্যাস। এক ধরণের অভ্যাস।
আমাদের এ অভ্যাস অনেক পুরোনো। স্বামীজী
২০শে জুন, ১৮৯৪ সালে লিখছেন, দেওয়ানজীকে, চিঠিতে, "The whole defect is here:
The real nation who live in cottage have forgotten their manhood, their
individuality. Trodden under the foot of the Hindu, Mussulman, or Christian,
they have come to think that they are born to be trodden under the foot of
everybody who has money enough in his pocket. They are to be given back their
lost individuality."
সেই বাহনগা গ্রামে তিনদিন ধরে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান
হল, শান্তিপাঠ হল। প্রায় একশো তিরিশ জন মানুষ নিজেদের মস্তক মুণ্ডন করে ওই রকম মর্মান্তিকভাবে
মৃত মানুষদের জন্য প্রার্থনা করলেন। যারা অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন তাদের জন্য প্রার্থনা
করলেন। বললেন, অনেকেই এখনও বাড়ির লোকের কাছে পৌঁছাতে পারেনি, তাদের সবার জন্য জাতি-ধর্ম
নির্বিশেষে প্রার্থনা করা হল।
কুসংস্কার? অবশ্যই তাই। ঠিক যেমন মোমবাতি
নিয়ে হাঁটাটাও। একটা আধুনিক, শহুরে, আরেকটা প্রাচীন, কিছু আচার অনুষ্ঠান যুক্ত। কিন্তু
মোমবাতি নিয়ে হাঁটাটাকে নিয়ে আলোচনা হয়। সব খবরের কাগজের প্রথম পাতায় ছাপা হয়। কিন্তু
দেশীয় প্রাচীন শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের রাস্তাটাকে নিতান্ত তুচ্ছ, অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়। যদিও
তারা মোমবাতি নিয়ে হাঁটবে। হাঁটতেই হয়। হ্যারিকেন নিয়ে হাঁটলে তো আবার গ্রাম্য হবে,
আবার অন্য মানে হবে। মোমবাতি শুদ্ধ, শিক্ষিত, আধুনিক, শহুরে শোকের প্রতীক। আর বাকিটা
গ্রাম্য।
এর মধ্যে রাজনীতি নেই? কার মধ্যে রাজনীতি
নেই। আছে, অবশ্যই আছে। কিন্তু একজন মানুষ যখন বিনা মোমবাতি, বিনা একটা ইংরাজি শব্দ
উচ্চারণ করে, চোখে জল নিয়ে বলছে, এত এত মানুষ বিনা জল পেয়ে মারা গেল…. তখন সেটা রাজনীতির
ঊর্ধ্বে কিছু। বারবারা বহু বছর আগে একবার বলেছিলেন, মাতৃত্ব কখনও কখনও প্রকৃতির নিয়মের
ঊর্ধ্বে ওঠারও শক্তি ধারণ করে।… "Sometimes the strength of motherhood is
greater than natural laws."....তখন নিশ্চয়ই এই চোখের জলের কথাই উঠে আসে। মাতৃত্বকে
একটা শরীরে আবদ্ধ করে দেখাটাও যেমন কুসংস্কার। অন্তত ভারতীয় দর্শনে। যেখানে বুদ্ধ মায়ের
হৃদয় আশা করেন শিষ্যের মধ্যে, আর চণ্ডী সর্বভূতে মাতৃত্বকে আবাহন করে।
মানুষ সংস্কারমুক্ত হতে চাইলেও পারে
না। সমস্যাটা সংস্কারের না। সমস্যাটা দৃষ্টিভঙ্গির। কেউ মাটির মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে
শুধু পুতুল দেখছে, কেউ বিশ্বজননীকে কল্পনা করে প্রসন্ন হচ্ছে, এ দুটোই সত্য। কাউকে
ছোটোভাবে, তুচ্ছভাবে দেখার অভ্যাসটা বদলানো আসল সংস্কারমুক্ত হতে চেষ্টা করা। আসল আধুনিক
হওয়া। উন্মুক্ত হওয়া। সেই দৃষ্টিভঙ্গি যত বেশি বেশি আসে তত মঙ্গল। তার জন্য নিজের বোধের
আর দরদের গণ্ডীটাকে আরো না বাড়ালে কি হয়? শুধু ক'টা শহর আর সভাগৃহের বাইরে যে একটা
আস্ত দেশ পড়ে আছে। সেকি শুধু আহারে বেচারারে বলার জন্য? নাকি তাকে অনুভব করা, বোঝার
চেষ্টাও আমাদের আধুনিক জীবনের অংশ হয়ে ওঠা উচিত?

No comments:
Post a Comment