Showing posts with label শ্রুতি. Show all posts
Showing posts with label শ্রুতি. Show all posts

Monday, October 11, 2021

অন্য পূজো

ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী --- এই পাঁচটা দিন নিয়েই বাঙালীর রাজকীয় উন্মাদনা, বাঙালীর শারেদাৎসব। দেবী দূর্গার আবাহন, পূজো আর বিসর্জনের মধ্যেই বাঙালীর সাবেকী আর বারোয়ারি আনন্দ, খানাপিনা, ফুর্তি আর আমোদ আহ্লাদ। কিন্তু এই পূজো কি শুধুই আনন্দের? না তো! এই পূজোর উন্মত্ততার ফাঁকে ফাঁকে অনেক অজানা, অচেনা মানুষের কাহিনী বয়ে চলে অগোচরে। চরম উন্মাদনার পূজো তাই সেইসব মানুষেদর মনে রাখে না, যাদের কাছে পূজো আনন্দের নয়, যাদের কাছে পূজো এক উদাসীন একাকীত্বতা, কিম্বা আনন্দে মেতে উঠতে চেয়েও মেতে উঠতে না পারার ব্যর্থতায় বিষন্নতার অন্ধকারে ডুবে যাওয়া, অথবা বাইরের স্বাভাবিক উদ্বেলতাকে একদমই অনুভব করতে ব্যর্থ হয়ে দূর থেকে সেই আনন্দের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে বোবা কান্নায় মূক হয়ে যাওয়া... এমন পাঁচটি গল্প নিয়েই আমাদের এবারের দেবী আবাহন... সৌরভ ভট্টাচার্যের কলমে সৃষ্ট এই গল্পগুলো পাঁচজন ভিন্ন চরিত্রকে আবর্ত করে নির্মিত, যাদের অস্তিত্ব আমাদের চারপাশের এই আনন্দঘন সময়েও সমান্তরালভাবে নিরানন্দে ডুবে থাকে...





Saturday, June 12, 2021

রঙচটা দেবী

আশেপাশের মানুষ মনের মধ্যে অজান্তে ঢুকে পড়ে। মানু্ষের মনের সবটা তো কাজে লাগে না, অনেকটা বাড়তি থেকে যায়। সেই বাড়তি মনে সে মানুষেরা ঘর বাঁধে। সেও গৃহস্বামীর অজান্তেই। হঠাৎ একদিন গৃহস্বামী শোনে তার বাড়ির অন্যঘরে কাদের যেন গলার আওয়াজ। তারা তাদের গল্প বলছে। লিখতে বলছে। এইভাবেই অনেক গল্প জন্মে যায়। এই গল্পটাও তেমনভাবেই জন্মেছিল। সুমন মনস্থ করল ও পড়বে। পড়ল। আমি আবার আমার ঘরের মধ্যে এসে দেখলাম, সত্যি একঘরের মধ্যে কত ঘর! সুমনকে আর কি বলা....❤️



 

Saturday, May 22, 2021

বাঘের গল্প বাঘের মুখে

 


গতবছর প্রথম অনুভব করেছিলাম লকডাউন কি। নানা সমস্যার মধ্যে আমায় যেটা সব চাইতে ভাবিয়েছিল বাচ্চাগুলোর মানসিক অবস্থা। মনে হয়েছিল ওদের জন্য কিছু একটা করা উচিৎ। সেই সময়ে আমার মানসলোকে বুকু জন্মালো। আমি হলফ করে বলতে পারি আমি এতদিন ধরে যা লিখে আসছি তার মধ্যে আমার প্রাণের সব চাইতে কাছে বুকুর এই গল্পটা - বাঘের গল্প বাঘের মুখে।

লেখাটা ধারাবাহিকভাবে লিখেছিলাম। সত্যি বলতে লেখাটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমার রীতিমতো একটা বিষাদঘন মানসিক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল বুকুর সঙ্গে আমার আর দেখা হবে না বলে।

সুমন বুকুকে আবার অন্যভাবে আজ নিয়ে এলো। অক্ষর থেকে বুকু উচ্চারণে জন্ম নিল। পুরো কাজটা সুমন একাই করেছে। কি অসীম ধৈর্য নিয়ে কাজটা করেছে সে আমিই কেবল জানি। আমাকে যারা চেনেন মোটামুটি সুমনকেও তারা চেনেন। আমার এই ফেসবুকে লেখালেখিতে আসাও ওরই উৎসাহে, সে কথাও আমি আগে বহুবার লিখেছি।

আমার খুব ভালো লাগবে বুকুকে যদি আপনারা আপনাদের পরিবৃত্তে থাকা বাচ্চাদের কাছে পৌঁছে দেন। বুকু খুব মিশুকে, দেখবেন ওর সঙ্গে ওদের চট করে বন্ধুত্ব হয়ে যাবে।

সুমনকে আর আলাদা করে কি বলব। আজ আমার এক অত্যন্ত আনন্দের দিন। এই বিষম পরিস্থিতিতে যৎসামান্য হলেও বাচ্চাগুলোর জন্য কিছু তো করা গেল। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এই প্রার্থনা। আর আমাদের সবার বাড়ির বাচ্চারা সুস্থভাবে বড় হোক। এ অন্ধকার থেকে ওদের হাত ধরে বের করে নিয়ে আসার মানুষগুলো যেন হারিয়ে না যায়। আমার সর্বস্ব দিয়ে এই প্রার্থনা।

 

Tuesday, October 6, 2020

আমার অস্তিত্বের ধ্রুবতারা - পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী


 


আমার অস্তিত্বের ধ্রুবতারা রচনাঃ সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী ===================== হতে পারে তুমি বেখেয়ালি  হতে পারে তুমি পার্ফেক্ট নও হতে পারে তুমি তুখোড় বুদ্ধিমান নও হতে পারে তুমি আমার সব মুশকিলে মুশকিল আসান নও হতে পারে তুমি আমার কিছু দুঃখের কারণ হতে পারে তুমি আমার কিছু অভিমানের কারণ হতে পারে তুমি আমার কিছু বিপাকে পড়ার কারণ হতে পারে তুমি আমার কিছু অসম্পূর্ণতার কারণ এ বাহ্যিক আমি শুধু জানি  তুমি আমার অস্তিত্বের সত্য তুমি আমার কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নও তুমি আমার সুখের কোনো প্রতিশ্রুতি নও তুমি ভাগ্যের সাথে আমার কোনো গোপন চুক্তি নও  তুমি তুমিই আমার গভীরতম ভালোবাসা আমার অস্তিত্বের ধ্রুবতারা

Tuesday, September 22, 2020

জগদ্দল - পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী

 


জগদ্দল রচনাঃ সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী মূল কবিতাঃ =========

বুকের ওপর একটা জগদ্দল পাথর বসিয়েছিলাম               অজান্তেই পাথরটা কবে জানি বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করল সে ক্রমে আমার হাত-পা-মুখের মত হয়ে উঠল    আমি কাঁদতে চাইলে সে হাসে    আমি চীৎকার করতে চাইলেও সে হাসে       আমি হাসতে চাইলে সে গম্ভীর          আমি রাগতে চাইলে সে চুপ                 পাথরেরই মত  ক্রমশঃ পাথরটা আমায় পেয়ে বসল      স্বভাবের গলার উপর দাঁড় করিয়ে                         পাথরত্ব নিলাম বিশ্বাসঘাতকের বিশ্বস্ত হলাম      নিজের বিপরীতে দাঁড়িয়ে    আমার বুকের ওপর এই জগদ্দলটা আজ অনেক বড়   আমার চেয়েও বড়। সত্যের চেয়েও বড়।  পাথরটা সরাতে আজ আমার ভীষণ ভয়    বিনা পাথরত্বে নিজের মুখোমুখি হতে আতঙ্ক         ‘মরে যাই যদি চোখ ঝলসে’? তবু সরাতে হবে এ জগদ্দলটা   একবার আকাশটাকে নিজের হাতে ছুঁয়ে তো দেখি     একবার জলের স্বাদ নিয়ে দেখি জিভে                        সে সত্যিই অমৃত কিনা!  একবার না হয় কাঁদি,     ‘নিজের চোখের জলের স্বাদ না পেলে মানুষের আত্মা বাঁচে না বেশিদিন’          কে যেন বলে গেল আমায়                   ঘুমের ঘোরে গতরাতে

Friday, September 11, 2020

অভিসারের কোনো নির্ঘন্ট হয় না -পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী

 



অভিসারের কোনো নির্ঘন্ট হয় না রচনাঃ সৌরভ ভট্টাচার্য্য পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী
মূল কবিতা
======== বাঁশি পাঞ্চজন্যকে বলল, ভালো আছো?
পাঞ্চজন্য বলল, তোর বুকে সুর ওঠে? বাঁশি বলল, ধুলো জমেছে। পাঞ্চজন্য বলল, আমার বুকে কারা যেন বাসা বেঁধেছে, সারাদিন ঘড়ঘড়, ফিসফাস আওয়াজ।  সূর্যোদয় হল। সূর্যের প্রথম আলো এসে পড়ল বাঁশি আর পাঞ্চজন্যের উপর। নদীর তীরে ধীরে ধীরে জনসমাগম হতে শুরু করল। এর পায়ে, ওর পায়ে ধাক্কা লাগতে লাগতে পাঞ্চজন্য আর বাঁশি জলের ধারে গিয়ে পড়ল। জলের ঢেউ আছড়ে পড়ল তাদের উপর।     জল বলল, আমার সাধ্যমত ধুয়ে দিলাম। আজ জন্মাষ্টমী। ওরা ভুলে গেছে তোমাদের।    বাঁশি বলল, আমি বাজলে হৃদয় গলে ভালোবাসা হত।    পাঞ্চজন্য বলল, আমি বাজলে দুষ্ট যে সে প্রহর গুনতো, প্রলয়ের।  জল বলল, সে প্রাচীন কথা। এখন অনেক নকল বাঁশি, অনেক নকল পাঞ্চজন্য।  তাদের সুর? তাদের স্বর? - পাঞ্চজন্য আর বাঁশি জিজ্ঞাসা করল।  জল বলল, সেও নকল, কিন্তু আসল সুর কে চিনবে? হৃদয়ের উপর ধন আর পাণ্ডিত্যের অভিমানের চাঙড়। কানে আত্মপ্রশংসার ধুন।  পাঞ্চজন্য আর বাঁশির বুকের ভিতর দিয়ে জল বয়ে যেতে লাগল। নদীর তীর কোলাহলে পূর্ণ।  হঠাৎ জল বলল, ওই দেখো..   পাঞ্চজন্য আর বাঁশি দেখল, একটা শিখীপাখা ভেসে ভেসে আসছে এদিকে। ভাসতে ভাসতে সে এসে ঠেকল বাঁশির গায়ে।    বাঁশি বলল, সে কোথায়? পাঞ্চজন্য বলল, সেকি ভুলে গেছে আমাদের?   শিখীপাখা বলল, সে ওই, ওর মধ্যে।  বাঁশি বলল, ও যে ভিড়, শুধুই উচ্ছৃঙ্খল কোলাহল।  শিখীপাখা বলল, ওর মধ্যেই জাগবে আবার সুর, ওর মধ্যেই বাজবে আবার আহ্বান, ওরাই সাজবে আবার উদার চেতনায়, সেদিন আবার ডাক পড়বে তোমাদের।    এখন নয় কেন? বাঁশি জিজ্ঞাসা করল।  শিখীপাখা বলল, জানি না। কেউ জানে না এর উত্তর। তার অভিসারের কোনো নির্ঘণ্ট হয় না, যন্ত্রণার ঘট পূর্ণ হলেই আসবে ডাক। অপেক্ষা করো।

Monday, September 7, 2020

বুঝতে পারলাম না --- পাঠ : সংহিতা ব্যানার্জী


 


বুঝতে পারলাম না রচনা : সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠ : সংহিতা ব্যানার্জী
মূল কবিতা ============== বৃন্ত থেকে ঝরে যেতে যেতে        ফুলটা কি যেন বলে গেল  বুঝতে পারলাম না ভাবতে ভাবতে ক্রমশ গাছ হলাম  কুঁড়ি ধরল। ফুল হল। ঝরে পড়ল।  বিনাবাক্যে ঝরে পড়ল কেন,   কিছু  বুঝতে পারলাম না তারপর আমি আকাশ হলাম, মাটি হলাম,     এমনকি হল্কাপোড়া বাতাসও হলাম      কিন্তু কখনও ফুল হতে চাইলাম না কেন হতে চাইলাম না   বুঝতে পারলাম না

Monday, August 31, 2020

সে কি ফেরাতে পারে কাউকে? --- পাঠ: সংহিতা ব্যানার্জী

 



সে কি ফেরাতে পারে কাউকে? রচনা: সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠ: সংহিতা ব্যানার্জী মূল কবিতা ========= ঝরণার উপর ভোরের আলো এসে পড়ল।  ঝরণা আলোকে বলল, মিশে যাও আমার সাথে।  আলো সারাদিন ঝরণার জলের সাথে মিশে, পাহাড় বেয়ে সমতলে বেয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ল।  সন্ধ্যা হল। অন্ধকার নেমে এসে দাঁড়ালো ঝরণার সামনে। ঝরণা অন্ধকারকে বলল, এসো, আমার মধ্যে যাও মিশে।  অন্ধকার ঝরণার শরীরে মিশে, সেও পাহাড়, সমতল পেরিয়ে গেল সমুদ্রে।  ঝরণা থামল না। কাউকে বলল না, সরে দাঁড়াও। কাউকে বলল না, মিশো না আমার সাথে। তার বুকে যে সমুদ্রের অভিসারের ডাক! সে কি ফেরাতে পারে কাউকে?

Friday, August 28, 2020

মোহনা --- পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী

 



মোহনা রচনাঃ সৌরভ ভট্টাচার্য্য পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী মূল কবিতাঃ ==========
আমি মোহনার সামনে দাঁড়িয়ে। মোহনা দিগন্তলীন হয়ে আমার সামনে শুয়ে। সুদূর অতীতের গুহা থেকে হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে বেরিয়ে আসছে লক্ষ লক্ষ খণ্ড খণ্ড আমি। আমার উপর দিয়ে উড়ে চলে গেল তারা গোধূলির আলোছায়া মাখা আলোয় বাদুড়ের মত। কেউ কেউ মোহনার জলে ডুবে গেল। কেউ কেউ দিগন্তে গেল মিলিয়ে। যেন একটা শুকনো পাতা ভরা গাছ, এক দমকা হাওয়ায় সব পাতা হারিয়ে, শূন্য ডালগুলো আকাশের দিকে মেলে স্থির উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে। আমার কোথাও যাবার নেই। কিছুর অপেক্ষা নেই। কারোর কাছে কোনো প্রত্যাশা নেই। প্রতিটা শ্বাসে আমি আমার অস্তিত্বকে খুঁজছি। যারা হারিয়ে গেল কিম্বা সে অন্ধকার গুহায় - আমি নই। আমার গভীরে, আরো গভীরে, সমস্ত অপেক্ষা, সমস্ত অভিযোগ, সমস্ত উদ্বিগ্নতাকে শান্ত করে, ক্ষমা করে, আমার চেতনার গভীরের আরেক মোহনায় স্নানে চলেছি। বাইরের মোহনা ভিতরের মোহনাকে চেনে। তাদের মধ্যে অসীম দূরত্ব, তারা দুই মেরুতে দাঁড়িয়ে। এক মোহনায় সূর্যাস্ত হলে আরেক মোহনায় সূর্যোদয়। আমার পিঠে সূর্যাস্তের আলো, আমার মুখে আলো সূর্যোদয়ের।

Monday, August 24, 2020

প্রার্থনা --- পাঠ: সংহিতা ব্যানার্জী




প্রার্থনা রচনা: সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠ: সংহিতা ব্যানার্জী
মূল কবিতা ========= টব আছে মাটি আছে চারাগাছও আছে মনে সাধ   চারাগাছটা হোক মহীরুহ মনে শঙ্কা   সে মহীরুহ চিড় ধরাবে টবের   আমার বাগান ছেড়ে হবে বনের চারাগাছ, তুমি আমারই থেকো মহীরুহ, আমিই তোমারই হলাম আমায় শঙ্কা মুক্ত করো জল নাও। মাটি নাও। বাতাস নাও।  মহীরুহ, তুমি আমাকেও নাও। ভোরের প্রথম আলো - পড়ুক এসে  তোমার পাতায়, তোমার ডালে, পাখির নীড়ে পাখিরা হোক বৈতালিকের দল আমি হই তোমার একটি পাতা

 

Friday, August 14, 2020

মহাকালের মত --- পাঠ : সংহিতা ব্যানার্জী



মহাকালের মত রচনা : সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠ : সংহিতা ব্যানার্জী মূল কবিতা ============= যদি বলা হয়ে গিয়েছিল      তবে আবার ফিরে এলাম কেন?  যদি বলা হয়নি       তবে চলেই বা গিয়েছিলাম কেন?  তুমি ফিরে যাওয়ার পর     দিন ফুরিয়ে সন্ধ্যা হল        সমস্ত বলা, না-বলা কথাগুলো     হারিয়ে গিয়ে আমিই শুধু পড়ে রইলাম            একা  বোবা ব্যথা মানে যেন হৃদয়   অন্ধকার আকাশে      বেড়াতে বেড়াতে       এ তারা, সে তারায়        হোঁচট খেতে খেতে           আমায় বলল,                তোমায় তো চিনি না আমি!                   কি চাও?          তাকিয়ে আছ কেন একচোখ ভিক্ষাপাত্র নিয়ে?  সমস্ত শূন্যতা মানে তখন যেন আমি     ভাষা নেই। আমি নেই। তুমিও নেই।   অনন্ত সম্ভাবনা ফুরানো  একটা মাটির প্রদীপ যেন সে       যার শিখা নিভে গেছে         এই খানিকক্ষণ হল             তার অতীতের উষ্ণ গা                ভবিষ্যতের শীতলতায় নামছে স্নানে                  উদাসীন,                                         মহাকালের মত

 

Thursday, August 6, 2020

ছন্দ --- পাঠ: সংহিতা ব্যানার্জী

 



ছন্দ রচনা: সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠ: সংহিতা ব্যানার্জী মূল কবিতা ========== আমি চাই না    তুমি চাবির গোছাটা হারিয়ে ফেল আমি চাই না    তোমার শোয়ার ঘর        তোমার রান্নাঘর             তোমার স্নানেরঘর          তোমার অপরিচিত হোক  আমি চাই      তোমার অবকাশের            কোনো উদ্বৃত্ত মুহূর্তে                 যদি স্মরণ করো                        আমায়                        বসন্তের ফুলের সৌরভে নয়                            ঝরাপাতার বন্ধনহীন গৌরবে ধন্য হব   তুমিই তো সেই একমাত্র মানুষ        যে আমায় বুঝতে চেয়েছিলে                নিজের কিম্বা আমার ছন্দ ভেঙে নয়,                      আমার ছন্দে                          নিজের ছন্দ আবিষ্কার করে

Friday, July 24, 2020

হারাইনি কিছু --- পাঠ : সংহিতা ব্যানার্জী



হারাইনি কিছু রচনা: সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠ : সংহিতা ব্যানার্জী মূল কবিতা ============ আমি হারাইনি কিছু রেখেছি মরমে যতনে     প্রকাশ্যে কিছু            কিছু গোপনে       কিছু রেখেছি আমার স্মরণে         বাকি যা কিছু আছে বিস্মরণে কিছু রেখেছি আমার জাগরণে           আরো যা কিছু আছে স্বপনে কিছু রেখেছি আমার জীবনে            অবশিষ্ট যা কিছু                 জানি                      রয়ে যাবে ওরা মরণে আমি হারাইনি কিছু রেখেছি মরমে যতনে     প্রকাশ্যে কিছু            আর যা কিছু -                      থাক গোপনে
 

Tuesday, July 7, 2020

কি ভাব তোমার --- পাঠ: সংহিতা ব্যানার্জী



কি ভাব তোমার রচনা : সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠ: সংহিতা ব্যানার্জী মূল কবিতা ============= ঘুমের মধ্যে এসে দাঁড়ালে,      হেসে বললে, এই তো আমি। আমি বললাম,    আমার জাগায় তবে কে?  তুমি বললে, সেও আমি।      চোখে তোমার মৃদু কৌতুক।  আমি বললাম, তবে আমি?  নিস্তব্ধ চারদিক।  দেওয়ালে দেওয়ালে প্রতিধ্বনি -     "আমি"...."আমি"...."আমি"..... মাথার মধ্যে ঘোর উঠল যেন সহস্র ঘোড়ার খুরের আঘাত     ধুলোয় ধুলোয় ঢাকা চারদিক. আমি অস্থির     চোখ বুঝলাম         একি! একি! একি! ধুলোর মধ্যে ভেসে এলো      রাধাচূড়ার পাপড়ি একটা হাত বাড়ালাম     মুঠোয় নিলাম মুঠো খুললাম কিচ্ছু যে নেই               না আমি                       না তুমি ঘুম ভাঙল দিনের আলোয় কান্না কেন?      শূন্যতার এ কেমন রঙ আজ?                ওগো রাধাচূড়া,            কি ভাব তোমার?

 

Sunday, June 14, 2020

সুখ পোহালো --- পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী




সুখ পোহালো রচনাঃ সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী

মূল কবিতা ========= সমুদ্র বাতাসকে ভালোবেসে বলেছিল,      আমায় যত্নে রেখো বাতাস ঢেউ এর পরে ঢেউ তুলেছিল         ঝড় তুফানে পাগল করেছিল  পৃথিবী আকাশকে বলেছিল,      আমায় আগলে রেখো আকাশ মেঘ-বৃষ্টিতে বন্যা এনেছিল        প্রখর তাপে বুক পুড়িয়েছিল মেয়েটা ভর দুপুরে ছাদে মেলে যাওয়া     কাপড়গুলো            গোধূলিবেলায় তুলতে তুলতে                     অন্যমনস্ক  হলুদ আকাশ। ঝোড়ো হাওয়া।       তার সাধের শাড়ি            উড়ে গেল             গলি হারালো সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে        মৃদু হাসল                শাড়িটা পাক মুক্ত আকাশ                        গায়ের গন্ধ                              গা হারিয়ে                                  কথা হারিয়েই                                      না হয় একটু                                            সুখ পোহালো
 

Monday, June 8, 2020

ঝড়ের নিশান --- পাঠঃ সংহিতা ব্যানার্জী


 

রচনাঃ সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠঃসংহিতা ব্যানার্জী

মূল কবিতা ========= ঝড়ের নিশান মেঘ ওড়ালো পাখিকে বলল,           খবরদার!    ছোট্টো শরীর হারিয়ে যাবি        নীড়ে ফিরে যা                 হ হুঁশিয়ার!  পাখি বলল,    যে বাতাসে ঝড় তোলো মেঘ      সে যে আমার ডানার সখা        তুমিই জেনো ফুরিয়ে যাবে            নীলাকাশ আবার দেবেই দেখা।

Sunday, May 31, 2020

অগ্রন্থিত --- পাঠ : সংহিতা ব্যানার্জী




অগ্রন্থিত রচনা: সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠ : সংহিতা ব্যানার্জী মূল কবিতা ========= আমার সুসজ্জিত দুর্বিনীত প্রাচুর্যপূর্ণ                গ্রন্থাগার দেখে ভাবলে                তোমার সাথে পরিচয় হল                      একজন ভালো মানুষের            তুমি কামারশালা দেখোনি না?  দেখোনি কিভাবে ছুরি বঁটি ধার দেওয়া হয়?  মৃদু আলোয় চকচক করে ওঠা এরকমই দুর্বিনীত উজ্জ্বল শরীর দেখোনি ওদের?  এ লাইব্রেরি আমার কামারশালা প্রতিদিন শাণ দেওয়া হয় অজস্র অস্ত্র        ভাষা চিন্তা ভাব  প্রতিদিন লড়াইয়ে নামা       প্রতিদিন অজস্র হত্যা          প্রতিদিন কোনো দর্শন গ্রন্থে                   রক্তের দাগ মুছে নেওয়া  যে মানু্ষের গায়ে বইয়ের গন্ধ     জেনো বারুদের গন্ধও পেতে পারো           তার গা থেকে যে কোনোদিন  যদি বাঁচতে চাও      তবে একজন পাগলকে খোঁজো            যে সব বইয়ের সূচীপত্র হারিয়েছে                       মানুষকে জানবে বলে                              নিজেকে                         অগ্রন্থিত মানুষ রেখে গেছে                                       শেষ পর্যন্ত

Monday, May 25, 2020

আমি পারফেক্ট নই --- পাঠ : সংহিতা ব্যানার্জী


আমি পারফেক্ট নই রচনা : সৌরভ ভট্টাচার্য্য আবৃত্তি পাঠ : সংহিতা ব্যানার্জী

মূল কবিতা
==========

আমি পারফেক্ট নই
অঙ্ক বা পদার্থবিদ্যার সূত্রের মত
কিম্বা জীবন জুড়ে ঘটে চলা নানা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মত
আমি আবর্তনশীল, ধ্রুব, প্রশ্নহীন অস্তিত্ব নই
আমি পারফেক্ট নই
আমার সুসজ্জিত পাঁজরের তলায় যে হৃদয়
স্কুলপালানো অভদ্র বেয়াদব সে
তার না আছে গুরুমশায়, না বন্ধু, না ঈশ্বর
আমি পারফেক্ট নই
আমার বুকের শক্ত স্টারনামের নীচে যত আবেগ
দুর্বল নয়, ভীরু নয়
    কোমল
       অসুরক্ষিত, বেমানান, আদিম
আমি পারফেক্ট নই
আমার যত ভুল
  নদীর মত নিরবচ্ছিন্ন তারা
ঠিক বলতে যা বোঝায়
  বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত এখানে সেখানে
       অনুর্বর
আমি পারফেক্ট নই
তবু একটা অদম্য, বল্গাহীন,
       প্রতিযোগিতাহীন
             বিশ্রামহীন জীবন
                 হাতের মুঠোয়
ফুরিয়ে যাচ্ছে
    অবহেলায়, অপরিচর্যায়
চারদিকের ত্রুটিহীন নিয়মচর্যার
   নিশ্চিদ্র নির্ভুল কারাগারে
অনেকবার অন্তর্যামীকেও ঘুমিয়ে পড়তে দেখেছি
   ক্লান্তিতে, ভয়ে, আত্মপ্রতারণার শ্রান্তিতে
তবে আজ অবধি ভেসে আসা
   আমার জীবনের
     প্রতিটা মুহূর্তের সাক্ষী কে?
এক সংঘাত
জড়ের কূলে চেতনার ঢেউ
     প্রতিক্ষণে যা উঠছে ভাঙছে
          জাগছে, জাগাচ্ছে
   সে
আমি মৃত্যুর মত ধ্রুব নই

   আমি পারফেক্ট নই