Showing posts with label FILM. Show all posts
Showing posts with label FILM. Show all posts

Saturday, November 25, 2023

লিও



লিও সিনেমায় কোনো ডোরেমন নেই। অতিপ্রাকৃত উপায়ে সমস্যার সমাধানের কোনো উপায় লিও জানে না। লিও স্কুলের কাঁচের বাক্সে রাখা পোষ্য। তার সঙ্গী একজন কচ্ছপ। 

    গল্পটা সোজা। কিন্তু হৃদয়কে ছোঁয়। লিও বাচ্চাদের সমস্যার সমাধান করে দরদ আর বাস্তবতা মিশিয়ে। নিজের সীমাবদ্ধতা আর নিজের প্রতিভাকে জানার জন্য নিজের মধ্যে যে দরদ আর বাস্তববোধ দরকার লিও বাচ্চাদের তা শেখায়। আর বলে প্রত্যেকে তোমরা জীবনে এমন লিওকে খুঁজে বার করো যার কাছে তোমরা মনের কথা খুলে বলতে পারো। সেই মনের কথা খুলে বলার মধ্যেই আছে সমাধান। 

    দীর্ঘদিন এই শিক্ষকতার সঙ্গে থেকে দেখেছি বাচ্চাদের যদি আমার পূর্বকল্পিত সরল-সোজা-অবোধ ট্যাগ লাগিয়ে না দেখি, বা হাড়বজ্জাত-গাঁটে গাঁটে শয়তানি ইত্যাদির চশমাতেও না দেখি, তবে গোটাগুটি তাদের দেখতে পাওয়া যায়। নইলে যা দেখতে চাই, শুনতে চাই, তাই দেখি, তাই শুনি। 

   বাচ্চাদের নিজেদের জটিলতা বা কমপ্লেক্সিটি থাকে। সেগুলো বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয় আদতেও তা নয়। আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রা জীবনের অনেকদিক বাচ্চাদের সামনে অনেক আগেই খুলে ধরছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সেগুলোকে নিজের বোধবুদ্ধিতে নিজের মত করে গ্রহণ করার শিক্ষা বা ক্ষমতা কোনোটাই তাদের থাকে না। ফলে অর্ধপাচ্য, অপাচ্য হয়ে মনের কোণে এমন সব জটিলতা সৃষ্টি করে বাইরে থেকে সেগুলোর নাগাল পাওয়া মুশকিল। অন্তত আপাত দৃষ্টিতে। 

   প্রথম কথা একটা আনজাস্টিফায়েড, আনরিজনবল অপরাধবোধ থেকে রক্ষা করা। এটা একটা প্রাচীন অভ্যাস। নানা অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা, অযৌক্তিক প্রত্যাশার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সেল্ফ-এস্টিমকে টিকিয়ে রাখা যথেষ্ট কঠিন। সবাই পারে না। সবার আগে তাকে এই অযৌক্তিক অবাস্তব প্রত্যাশা আর প্রতিযোগিতার থেকে রক্ষা করার জন্য তার মধ্যে একটা সতেজ স্বতঃস্ফূর্ত যুক্তিবোধ আর বাস্তববোধকে আনা জরুরি। সেও সময় থাকতে। নইলে ওই অপরাধবোধের ধিকিধিকি অনলে জ্বলে তার চিত্ত বিকারের আগার হয়ে ওঠে। তার রাগ, তার রূঢ় ব্যবহার সবই তার ইচ্ছাকৃত হয়ে ওঠে আমাদের ডিফল্ট মোডে থাকা দোষ অন্বেষার সামনে। আমরা নানা দোষে তাদের দোষীয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে প্রথালব্ধ কোনো একটা শাস্তিকে কায়েম করে ভারি একটা চরিত্র সংশোধনের ব্যবস্থা করলাম। এবং অবশ্যই এতে তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। 

   কিন্তু সেই ঐতিহ্যময়, ঐতিহাসিক সুষমামণ্ডিত শাস্তি যখন ঘটনাকে আরো দুঃসহ করে তোলে তখন সেই দোষী, অপদার্থ, খুদে খুদে মনুষ্যরূপধারী শয়তানগুলোর অকৃতজ্ঞতার স্পর্ধা দেখে আমাদের বিস্ময়ের আর সীমাপরিসীমা থাকে না। 

     মনুষ্যচরিত্র জটিল। সে শিশুই হোক কি পূর্ণাঙ্গ মানুষ। শিশু দেবতার রূপ। তার সরলতা স্বর্গীয় মাধুর্যময় - এ সব মিথ। কোনোটাই সত্য নয়। তাদের জটিলতাকে শিক্ষা আর প্রশিক্ষণ অনুযায়ী না দেখলে শিব গড়তে বানর গড়ার সম্ভাবনা প্রচুর। আর তার উদাহরণের অভাবও নেই চারপাশে।

      লিও সেই জটিলতার মাঝে এসে দাঁড়ায়। একটা বাচ্চা তো শুধু বয়সে আর শিক্ষার তথ্যে বড় হয় না, বিকশিতও হয়। কিন্তু বিকশিত হওয়া আর বেড়ে ওঠার মধ্যে যে একটা পার্থক্য আছে তা দুর্ভাগ্যজনকভাবে অভিভাবক আর শিক্ষক উভয়েরই অনেক সময় মাথায় থাকে না। সেখানে আইনি ভাষায় “কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট” এসে “টাং এড়ায়”। 

     প্যারেন্টিংটা ঠিক ইনস্টিংক্ট না। ইনস্টিংক্ট দ্বারা পরিচালিত হলে আমরা এদ্দিন জঙ্গল ছেড়ে খুব বেশিদূর এগোতাম না। আমাদের নিজেদের শিক্ষিত করা দরকার। কোনোটাই গ্র‍্যান্টেড নয়। 


   দুদিন আগে এক বিয়েবাড়িতে আরাধ্যা আমাকে আলাদা ডেকে বলল, তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। 


     আমরা বিয়েবাড়ির মধ্যেই অদৃশ্য ‘'ডোন্ট ডিস্টার্ব” টাঙিয়ে কথাবার্তা শুরু করলাম। তার স্কুলের নানা গল্প, তার শীতের প্ল্যানিং এবং আরো নানা সিক্রেট ইস্যু শুনতে শুনতে ভাবছিলাম ঈশ্বরের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ আমি, সে আমাকে এর যোগ্য মনে করেছে। এবং অবশ্যই তার বাবা - মাও আমার উপর সে ভরসা রেখেছে। 


   জটিলতা থাকবেই। আর তা দিন দিন বাড়বেই। তার বাস্তবোচিত সমাধানের রাস্তাও আমাদের বিবেক-বুদ্ধির নাগালের মধ্যেই। যদি না মোহান্ধ হই। নইলে দেখছি না? শিক্ষিত, অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক সুযোগসুবিধা আচ্ছাদিত তাবড়-তাবড় দুটো দেশ হাজার হাজার নিরীহ প্রাণ হত্যা করে এখন শান্তির কথা বলছে! এরা তো কেউ শিশু না। এই ম্যাচিওরিটি? 


     বয়েস না, বাস্তববোধ। মোহ না, সহমর্মিতা। এই দুটোই মানুষের প্রজ্ঞার প্রাণকেন্দ্র। লিও তার গল্পই বলে। পারল দেখতে পারেন। নেটফ্লিক্সে।

Sunday, March 28, 2021

গারদ


 


কাম্যু তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'মিথ অব সিসিফাস" এ বলছেন, 'THERE is but one truly serious philosophical problem, and that is suicide. Judging whether life is or is not worth living amounts to answering the fundamental question of philosophy.'

আসলে আত্মহত্যা কথাটা যদি আক্ষরিক অর্থে না ধরি, তবুও এটা সত্যিই যে আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক জীবনে আমরা নানা কর্তব্য, পরিস্থিতি ইত্যাদির চাপে ক্ষইতে থাকি। তবু লড়াই চালিয়ে যাই। কেন যাই? কি আমাদের বাধ্য করে বাঁচতে? আমাদের মধ্যের মানবিকবোধ আমাদের কতটা গভীরে শিকড় গেঁথে থাকে? সেই কি আমাদের বিশল্যকরণী? আমাদের মানবতা বোধ? এই নিয়েই ক্ষুদ্র নাট্যরূপ এটি।

 

২

 

মানুষ সৌভাগ্যবান হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে আশাতীত কিছু ঘটে যাওয়াকে কি শুধু সৌভাগ্য বলে?

Mriganka -র সঙ্গে আমার আলাপ ফেসবুকেই। 'গারদ' বলে আমার একটা লেখা ওনার ও ওনার বন্ধুদের ভালো লাগে। সেটাকে চলচ্চিত্র রূপ দেওয়ার কথা ভাবেন। আমার সঙ্গে সেই নিয়ে যোগাযোগ হয়।

মৃগাঙ্ক'র নিষ্ঠা, বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার আর সব চাইতে বড় কথা অসামান্য দায়িত্বজ্ঞানবোধ আমায় মুগ্ধ করে। নিজেদের নানা ব্যস্ততা, কাজ সামলিয়ে যখন যেভাবে কাজ এগিয়েছে তখনই আমায় জানিয়েছেন। এমনকি কাজ কোনো কারণে থেমে গেলেও জানিয়েছেন। আমার বারবার মনে হয়েছে যেন আমি প্রজেক্টের একজন সক্রিয় সদস্য।

আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ মৃগাঙ্ক ও তার সমস্ত বন্ধুদের কাছে যে আমার একটা কাজকে তারা এত যত্ন নিয়ে করার চেষ্টা করেছেন। তাদের মনে হয়েছে এই গল্পটা নিয়ে কাজ করা যায়, এটাও বিস্ময়ের। কারণ ঘটনাবহুল, কাহিনীমূলক লেখা তো এটা নয়। একটা মনস্তাত্ত্বিক লেখা। তাকে সচল রূপ দেওয়া খুব সহজ কাজ নয়। আমরা সচল বস্তুতে প্রথমত ঘটনার ধারাবাহিকতা খুঁজি। কথার গভীরে মর্ম ছোঁয়ার চেষ্টা স্বাভাবিকভাবে আসে না প্রথমেই। কিন্তু গল্পের কেন্দ্রের মানুষটির অসামান্য অভিনয় কথাগুলোকে হৃদয়ের কাছাকাছি এনে দিতে সমর্থ হয়েছে।

আমি আবারও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই এই কাজটার জন্য। আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ওনাদের আগামী উদ্যোগগুলোর জন্য। ওনারা আরো সফল হোন, আরো এগিয়ে যান, এই কামনা।

আমার বন্ধুদের জন্য রাখলাম।