কলিংবেল
বাজল। রাত এগারোটা। ছেলেটা দরজা খুলে বাইরে কাউকে দেখতে পেলো না। এদিক ওদিক তাকিয়ে
দরজাটা বন্ধ করতে গিয়ে খেয়াল করল, সামনের সিঁড়িতে দু'পাটি জুতো রাখা। ছেলেটা ভ্রু কুঁচকে
কিছু মনে করার চেষ্টা করল। পারল না। দরজাটা বন্ধ করে টিভির সামনে এসে বসল। টিভিটা চলছিলই।
হঠাৎ কিছু একটা পড়ে গেল মনে হল ছাদে ওঠার সিঁড়ির
কাছে। সিঁড়িটা তার ডানদিকে হলঘরটার শেষেই। উঠে গেল। সেই দু'পাটি জুতো। উল্টে পড়ে আছে।
ছেলেটা সেখানে দাঁড়িয়ে থেকেই বাইরের দরজার দিকে তাকাল। কি আশ্চর্য, দরজা তো লক করাই!
তবে?
জুতো দুটো বাইরে ফেলে এসে আবার টিভির সামনে
বসল। নিউজ চলছে। তার হাত-পা হিম হয়ে যাচ্ছে, টিভিতে সেই জুতো দুটো দেখাচ্ছে, রেলে কাটা
পড়া একজন মানুষের পায়ে। তাদের বাড়ির থেকে কিছু দূরেই জায়গাটা। ছেলেটার হাত থেকে রিমোটটা
পড়ে গেল। টিভিতে যার মুখটা দেখাচ্ছে তিনি তাদের উপরেই থাকতেন ভাড়া। কি একটা অর্থনৈতিক
সমস্যা ছিল বলে শেষ কয়েকমাস ভাড়া দিতে পারেননি। মা তাই ঘর ছেড়ে দিতে বলেছিলেন। লোকটা
অনেক কাকুতিমিনতি করেছিল।
খট করে আওয়াজ হতে ছেলেটা পাশে ফিরে তাকালো। তার পাশেই
সোফার সামনে জুতো জোড়া রাখা। টিভিটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। টিভির কাঁচের উপর দুজনের প্রতিচ্ছবি।
তার আর..
কে যেন ফিসফিস করে বলছে, ভাড়ার বাকি টাকাগুলো
নিয়ে আসছিলাম...
No comments:
Post a Comment