Wednesday, May 18, 2022

২৪৮

 

মাঝে মাঝেই শুনছি আজ অমুকের পারলৌকিক কাজ, কাল তমুকের পারলৌকিক কাজ। কারোর মা, কারোর বাবা, কারোর কাকা, কারোর ছেলে-মেয়ে।

এরা সবাই এই সময়ে গত বছর কোভিডে চলে গিয়েছিলেন। কি আতঙ্কের, কি ভয়ানক ছিল সেই সময়। তখন শুধু চিতার পর চিতা জ্বলছিল। মানুষের ভাবার সময় ছিল না ঈশ্বর মসজিদে না মন্দিরে। ঈশ্বর কিসে খুশি হন, আজানে না প্রার্থনায়? কার পুজোর স্থান কোথায়? কারণ সব বন্ধ তখন। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা সব তালা ঝুলছে। মঠ, মিশন, আশ্রম যেখানে গেলেই নাকি মানুষ অমরত্বের আশীর্বাদ পায়, সব বন্ধ তখন। তারাই তখন প্রাণ বাঁচাতে ভক্তদের বলছেন, এখন না, এখানে না। প্রাণপণে, প্রায় গ্র‍্যাণ্টেড ধরে নেওয়া, ডাক্তার, পুলিশ, আরো কত কত মানুষ থ্যাংকলেস লড়ে যাচ্ছে ওদিকে তখন। অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করে মরে যাচ্ছে মানুষ রাস্তায়, হাস্পাতালে। কোনো ঈশ্বর অক্সিজেনের সিলিণ্ডার হাতে ছুটে আসছে না। আসছে মানুষ। ছুটছে ট্রেন। মরছে ড্রাইভার, সাফাই কর্মী, সাংবাদিক একে একে। কি অসহায়তা। কেউ সেদিন স্বর্গ বা জন্নতে যেতে চাইছে না এমন প্রশস্ত ব্যবস্থা থাকতেও। সবাই চাইছে অক্সিজেন। ওষুধ। চিকিৎসা।

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সব বদলে গেল। সবাই আবার যে যার রঙচঙ মেখে রাস্তায় নেমে পড়ল। আমরা ওরা, হিন্দু মুসলিম আবার শুরু হয়ে গেল। এই হয়। জঙ্গলে পশু ভায়োলেন্ট হয় প্রবৃত্তি বশে। তার একটা শুরু শেষ আছে। মানুষের ভায়োলেন্স আর শেষ হয় না। সে চিন্তায়, চিত্তে, মাথায়, শরীরে, অভ্যাসে এমন শিকড় গজিয়েছে যে তার তল খোঁজা ভার।

No comments:

Post a Comment