Thursday, May 26, 2022

"আমি পারব"



সকালে একটা লেখা লিখেছিলাম। হৃদয় পরিবর্তনের উপায় খোঁজা নিয়ে। লেখাটায় ইচ্ছা করেই কালাম মহাশয়ের নামটা এড়িয়ে গিয়েছিলাম। ভাবছিলাম, আমাদের মননে উনি কতটা আছেন দেখি।

ইগ্নাইটেড মাইণ্ডস, বইটা কালাম সাহেবের, এই বইটা নিয়ে কি আর বলব, বইটা প্রতিটা স্কুলের পাঠ্য হলে তো ভালোই হত। শুধু এই বইটাই বা কেন, মানুষটা তো গোটা জীবনই দিলেন ছাত্রছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্যে। এবং মৃত্যুটাও সেই কাজের মধ্যেই এলো।

উনি বারবার বলতেন, সব ছাত্রছাত্রীদের বলতেন, একটা বিশ্বাস নানা প্রতিবন্ধকতা থেকে ওনাকে বাঁচিয়ে ছিল, সেটা হল - "আমি পারব"। উনি বারবার বলতেন, "আমি পারব", এই বিশ্বাসটাকে জাগিয়ে রাখতে। স্বপ্ন দেখতে।

আসলে বাণী যতটা না জোরে বাজে তার চাইতে জোরে বাজে জীবন। জীবনটাকে নিয়ে যদি আরো আলোচনা করা যায়। ওনার দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে নিয়ে যদি আরো ভাবনাচিন্তা করা যায়, ছেলেমেয়েদের মধ্যে আনা যায়, তবে সে অনেক বড় কাজ হয়।

কিন্তু দুর্ভাগা এ দেশে রতন টাটা, কৈলাশ সত্যার্থী, কালাম সাহেব প্রমুখ মানুষদের থেকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সিনেমা আর খেলার জগতের মানুষদের দাপট অনেক বেশি। তারাও অনেক বড় প্রেরণা নিশ্চয়ই। অস্বীকার করি না। কিন্তু গ্ল্যামার থেকে বাস্তবকে সরিয়ে দেখার ক্ষমতা সেই বয়সে অনেকেরই থাকে না। তাই গ্ল্যামারে চোখ ধাঁধায়, হৃদয়ে আগুন জ্বালায় না। শ্রম আর অধ্যবসয়ের চাইতে গ্ল্যামারের চাকচিক্যতেই সব ঢেকে যায়। এইটা ক্ষতি। ভ্রান্ত করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, রাস্তা পাওয়ার না।

আদর্শ চরিত্র আজও আছে। ইতিহাসের পাতা উল্টাতে হবে না তার জন্যে। কালাম স্যার হয়তো সেই দিক থেকে বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের জন্য সব চাইতে ঠিক। তাকে যেন আমরা এত তাড়াতাড়ি না ভুলে যাই। তার বইগুলো, ইউটিউবে পাওয়া নানা ভিডিওগুলো যদি বারবার সামনে আনা যায়, তবে মনে হয় কাজ হয়। আমি যে খুব একটা পারছি তা নয়, তবু চেষ্টা করি।

অন্যের এবং নিজের প্রতি নিজের তাচ্ছিল্যবোধের বদ হাওয়া থেকে নিজের উদ্যমের আগুনকে বাঁচিয়ে, "আমি পারব", এই কথাটা নিয়ে চলাটা যদি একজনের মধ্যেও জাগিয়ে দেওয়া যায়, সে-ই বা কম কি?

No comments:

Post a Comment