Monday, May 23, 2022

তুমি অন্তর্যামী

 

কৃষ্ণনাম করে উঠে বিড়ি ধরালো। চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে বলল, সংসারে কিছু নাই দাদা।

বউ ঘর থেকে বলল, শালা।

বিড়িটায় আরেকটা টান দিয়ে বলল, আসল সুখ এই নামগানে। সেই মধু। সংসার অসার। তিতা।

বউ ঘর থেকে বলল, ঢ্যামনা।

চায়ে আরেক চুমুক দিয়ে বলল, চিনি কি কম লাগছে দাদা? ওগো... একটু চিনিটা নিয়ে এসো না...

ঘর থেকে বলল, তোমার নামগান মিশিয়ে নাও। চিনি বাড়ন্ত।

মুখ ভার হল। শ্রোতা বিপদ বুঝে সরে পড়ল। কৃষ্ণসুখ আর নামগান বেড়ালের মত দরজা দিয়ে পালালো।

এখন সে একা। অন্দরমহলে ঢুকতে ভয়। রান্নার হাতাখুন্তির আওয়াজ বড়ই প্রবল হচ্ছে ক্রমে। আবহাওয়া ভালো না।

চায়ের ভাঁড় শূন্য। বিড়ি শেষ। সামনে গুরুদেবের ছবি। হাতে মালা, কপালে তিলক। সে ডাকল, গুরু এইবার?

গুরু বললেন, বারবার বলি মিথ্যা বলিসনি... বলিসনি... কথার সুখে ভেসে ডোবাকে বলিস সাগর... টগরকে বলিস বট... সামলা এবার..

ঘরে এলো। বলল, সে হল কথার কথা... আসল সুখ তো এখানেই.... ও সব ভাবের কথা... বুঝলে কিনা... মিছে কথা..

চোখে চোখ ঠেকল। ছ্যাঁকা! আগুন। বউ ঝনঝনিয়ে বেজে বলল, দোবো মুখে এই সলতে গুঁজে…

সে আবার ডাকল। হা গুরুদেব… হা কৃষ্ণ…

বউ বলল, এই ডাকে সুখ আছে?

সে বলল, না… এতো বিপদের ডাক…

বউ বলল, এই আসল ডাক… ওগুলো মেকি…

সে শুতে গেল। আলিঙ্গনে কাছে এলো বউ। কৃষ্ণ দাঁড়ালো মাথার কাছে, বলল, সুখ কিসে?

সে লজ্জা পেয়ে বলল, তুমি অন্তর্যামী…

No comments:

Post a Comment